সন্তানের ত্বক-চুলের রঙ ভিন্ন হওয়ায় স্ত্রীকে তালাক

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:২৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
  • 94

যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বাজুয়াডাঙ্গা পশ্চিমপাড়ার কৃষিমজুর শহিদ মোল্লার বাড়িতে ঘটে গেল অমানবিক ঘটনা। মোজাফ্ফর হোসেন তার স্ত্রী মনিরা খাতুনকে তালাক দিয়েছেন তাদের কন্যা আফিয়া খাতুনের ত্বক ও চুলের রঙ ভিন্ন হওয়ায়। তিন বছরের আফিয়ার ত্বক দুধসাদা এবং চুল হালকা ঘিয়ে রঙের। মোজাফ্ফরের দাবি, সন্তান তার নয়।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) মনিরা খাতুন জানিয়েছেন, সন্তান জন্মের পরপরই স্বামী নানা অপবাদ দিতে শুরু করে। কয়েক মাস পর তিনি তালাক দেন এবং এরপর আর কোনো খোঁজ রাখেননি। বর্তমানে মনিরা ও তার সন্তান বাবার বাড়িতে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়দের সহায়তায় ২০২৪ সালের ২১ মে সালিশ হয়, যেখানে মোজাফ্ফরের পরিবারের পক্ষ থেকে আফিয়ার খরচ বাবদ মাসে ১,৫০০ টাকা দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। তবে দুই বছর পার হলেও কোনো অর্থ দেওয়া হয়নি। প্রতিবেশীরা সাধ্যমতো সাহায্য করার চেষ্টা করছেন।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম মোর্তুজা বলেন, শিশুর এই অবস্থার নাম অ্যালবেনিজম, যা জিনগত কারণে হয়। এটি কোনো অভিশাপ নয় এবং চিকিৎসার প্রয়োজন নেই, শুধু রোদ থেকে রক্ষা করতে সান প্রটেকশন ব্যবহার করা উচিত।

রামনগর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রামপ্রসাদ রায় এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তারা পরিবারটিকে সহযোগিতা এবং আইন অনুযায়ী ভরণপোষণের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবেন। অভিযুক্ত মোজাফ্ফরের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

সন্তানের ত্বক-চুলের রঙ ভিন্ন হওয়ায় স্ত্রীকে তালাক

Update Time : ০২:২৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বাজুয়াডাঙ্গা পশ্চিমপাড়ার কৃষিমজুর শহিদ মোল্লার বাড়িতে ঘটে গেল অমানবিক ঘটনা। মোজাফ্ফর হোসেন তার স্ত্রী মনিরা খাতুনকে তালাক দিয়েছেন তাদের কন্যা আফিয়া খাতুনের ত্বক ও চুলের রঙ ভিন্ন হওয়ায়। তিন বছরের আফিয়ার ত্বক দুধসাদা এবং চুল হালকা ঘিয়ে রঙের। মোজাফ্ফরের দাবি, সন্তান তার নয়।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) মনিরা খাতুন জানিয়েছেন, সন্তান জন্মের পরপরই স্বামী নানা অপবাদ দিতে শুরু করে। কয়েক মাস পর তিনি তালাক দেন এবং এরপর আর কোনো খোঁজ রাখেননি। বর্তমানে মনিরা ও তার সন্তান বাবার বাড়িতে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়দের সহায়তায় ২০২৪ সালের ২১ মে সালিশ হয়, যেখানে মোজাফ্ফরের পরিবারের পক্ষ থেকে আফিয়ার খরচ বাবদ মাসে ১,৫০০ টাকা দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। তবে দুই বছর পার হলেও কোনো অর্থ দেওয়া হয়নি। প্রতিবেশীরা সাধ্যমতো সাহায্য করার চেষ্টা করছেন।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম মোর্তুজা বলেন, শিশুর এই অবস্থার নাম অ্যালবেনিজম, যা জিনগত কারণে হয়। এটি কোনো অভিশাপ নয় এবং চিকিৎসার প্রয়োজন নেই, শুধু রোদ থেকে রক্ষা করতে সান প্রটেকশন ব্যবহার করা উচিত।

রামনগর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রামপ্রসাদ রায় এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তারা পরিবারটিকে সহযোগিতা এবং আইন অনুযায়ী ভরণপোষণের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবেন। অভিযুক্ত মোজাফ্ফরের খোঁজ পাওয়া যায়নি।