Dhaka ০২:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং আতঙ্ক, ঝুঁকিপূর্ণ ২০০ কিমি বেড়িবাঁধ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫২:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২২
  • 139

প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের প্রভাবে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং প্রভাব ফেলতে পারে সাতক্ষীরা উপকূলীয় অঞ্চলে। মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) সকালে ঘূর্ণিঝড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকে সাতক্ষীরার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে।

জানা গেছে, সাতক্ষীরা উপকূলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় মোট বেড়িবাঁধ আছে ৭০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩৫ পয়েন্টে ২০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া উপকূলীয় জনপদের মৎস্য ঘেরগুলো বেশ ঝুঁকিতে রয়েছে।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, ঘূর্ণিঝড়টি নিম্নচাপ আকারে এখনো বঙ্গোপসাগরে রয়েছে। আগামী ২৫ তারিখ অর্থাৎ মঙ্গলবার সকালে সাতক্ষীরা উপকূলে আঘাত হানতে পারে। ইতোমধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এক নম্বর সতর্কতা সংকেত অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। পরবর্তী সতর্ক সংকেত জানিয়ে দেওয়া হবে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের বলেন, সাতক্ষীরা উপকূলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ৭০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে যার মধ্যে ২০০ কিলোমিটারের ৩৫টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো সংস্কার করা হয়েছে। তাছাড়া বাকি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দুর্যোগ মোকাবিলায় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সিত্রাং আঘাত আনতে পারে সাতক্ষীরা উপকূলে। শ্যামনগর উপজেলায় সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে ১০৩টি। এছাড়া স্কুল, কলেজ, মাদরাসাসহ অন্য পাকা ভবনে আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে ১৮০টি। এসব কেন্দ্রে প্রায় এক লাখ মানুষকে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব। তবে এ উপজেলার জনসংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। তাই পুরাপুরি সামাল দিতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক হুমায়ুন করিব বলেন, উপকূলীয় উপজেলা প্রশাসনকে দুর্যোগ মোকাবিলায় অগ্রিম প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় জেলায় সাইক্লোন শেল্টারের সংখ্যা অনেক কম। আগামীতে নতুন করে আরও কিছু সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি গাবুরা ইউনিয়নের চারপাশে নতুন করে টেকসই বাঁধ নির্মাণে এক হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে টেন্ডার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি চলতি বছর নতুন বাঁধের কাজ শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া অফিসের তথ্য মত, চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং প্রভাব ফেলতে পারে উপকূলীয় এলাকায়।

ফার্স্ট নিউজ ৭১/ সাতক্ষীরা/ দ ম দ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

সাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং আতঙ্ক, ঝুঁকিপূর্ণ ২০০ কিমি বেড়িবাঁধ

Update Time : ১১:৫২:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২২

প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের প্রভাবে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং প্রভাব ফেলতে পারে সাতক্ষীরা উপকূলীয় অঞ্চলে। মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) সকালে ঘূর্ণিঝড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকে সাতক্ষীরার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে।

জানা গেছে, সাতক্ষীরা উপকূলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় মোট বেড়িবাঁধ আছে ৭০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩৫ পয়েন্টে ২০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া উপকূলীয় জনপদের মৎস্য ঘেরগুলো বেশ ঝুঁকিতে রয়েছে।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, ঘূর্ণিঝড়টি নিম্নচাপ আকারে এখনো বঙ্গোপসাগরে রয়েছে। আগামী ২৫ তারিখ অর্থাৎ মঙ্গলবার সকালে সাতক্ষীরা উপকূলে আঘাত হানতে পারে। ইতোমধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এক নম্বর সতর্কতা সংকেত অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। পরবর্তী সতর্ক সংকেত জানিয়ে দেওয়া হবে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের বলেন, সাতক্ষীরা উপকূলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ৭০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে যার মধ্যে ২০০ কিলোমিটারের ৩৫টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো সংস্কার করা হয়েছে। তাছাড়া বাকি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দুর্যোগ মোকাবিলায় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সিত্রাং আঘাত আনতে পারে সাতক্ষীরা উপকূলে। শ্যামনগর উপজেলায় সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে ১০৩টি। এছাড়া স্কুল, কলেজ, মাদরাসাসহ অন্য পাকা ভবনে আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে ১৮০টি। এসব কেন্দ্রে প্রায় এক লাখ মানুষকে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব। তবে এ উপজেলার জনসংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। তাই পুরাপুরি সামাল দিতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক হুমায়ুন করিব বলেন, উপকূলীয় উপজেলা প্রশাসনকে দুর্যোগ মোকাবিলায় অগ্রিম প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় জেলায় সাইক্লোন শেল্টারের সংখ্যা অনেক কম। আগামীতে নতুন করে আরও কিছু সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি গাবুরা ইউনিয়নের চারপাশে নতুন করে টেকসই বাঁধ নির্মাণে এক হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে টেন্ডার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি চলতি বছর নতুন বাঁধের কাজ শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া অফিসের তথ্য মত, চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং প্রভাব ফেলতে পারে উপকূলীয় এলাকায়।

ফার্স্ট নিউজ ৭১/ সাতক্ষীরা/ দ ম দ