সৌদিতে চাঁদ দেখা গেছে, ঈদ শুক্রবার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:১৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৩
  • 263

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সৌদি আরবের আকাশে বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে, দেশটিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে আগামীকাল শুক্রবার (২১ এপ্রিল)। দিনভর নানা জল্পনা-কল্পনার পরে সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সৌদির চাঁদ দেখা কমিটি। খবর আরব নিউজের।

সৌদির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে ঈদুল ফিতরের ছুটি ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। ছুটি থাকবে চারদিন। আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে নিয়মিত সময়ে কাজ শুরু হবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুসলিমদের চাঁদ দেখার অনুরোধ জানিয়েছিল সৌদির চাঁদ দেখা কমিটি। চাঁদ দেখা যাওয়ায় দেশটিতে ২৯ রোজায় শেষ হলো পবিত্র রমজান মাস। শুক্রবারই ঈদের খুশিতে মেতে উঠবেন সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বসবাসকারী মুসলিমরা।

তবে বৃহস্পতিবার চাঁদ দেখা না যাওয়ায় আগামী শনিবার ঈদ উযাপনের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের অন্তত আটটি দেশ। এদের মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, থাইল্যান্ড, জাপান ও ফিলিপাইন।

শনিবার ঈদ উদযাপনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার ‘কিপার অব দ্য রুলারস সিল’ সৈয়দ দানিয়াল সৈয়দ আহমদ বলেছেন, ইয়াং ডিপারতুয়ান আগাং (প্যারামাউন্ট রুলার প্রধান) আল-সুলতান আবদুল্লাহ রিয়াতউদ্দিন আল-মুস্তফা বিল্লাহ শাহ মালয়েশীয় শাসকদের সঙ্গে আলোচনার পরে ঈদের তারিখ ঘোষণায় সম্মতি দিয়েছেন।

মালয়েশিয়ার মতো চাঁদ দেখা যায়নি প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়াতেও। তারাও ঈদুল ফিতর উদযাপন করবে আগামী শনিবার। ইন্দোনেশিয়ার ধর্ম মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কমপাস।

এশিয়ার আরেক দেশ ব্রুনেইও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় শনিবার ঈদুল ফিতর উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে। দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বৃহস্পতিবার খালি চোখে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, এমন কথা জানিয়েছিলেন ১৩টি আরব দেশের ২৫ জন জ্যোতির্বিদ্যা বিশেষজ্ঞ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদ্যা কেন্দ্র (আইএসি) এক বিবৃতিতে জানায়, এই বিবৃতি ঈদুল ফিতরের সঠিক তারিখ নির্ধারণের উদ্দেশ্যে নয়। কারণ এটি আইনগত ও বৈজ্ঞানিক বিবেচনাসহ বিভিন্ন কারণে দিয়ে প্রভাবিত। এ বিবৃতিটির উদ্দেশ্য হলো, চাঁদ দেখার বিষয়ে কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করা।

বিবৃতিতে বলা হয়, সূর্যাস্তের পর ক্ষণিকের জন্য আকাশে অর্ধচন্দ্রের উপস্থিতি এর দৃশ্যমানতার জন্য নির্ভরযোগ্য সূচক নয়। অর্থাৎ, সূর্যাস্তের পর সামান্য সময়ের জন্য আকাশে চাঁদ উঠলেও তা দেখা যাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

আইএসি বলেছিল, পুরোনো এবং নতুন সব মানদণ্ড বলছে, আরব বিশ্ব থেকে বৃহস্পতিবার খালি চোখে চাঁদ দেখা সম্ভব নয়। এই প্রত্যাশা কোনো ব্যক্তি বা দলের মতামত নয়, বরং বিশেষজ্ঞদের ঐকমত্য। সব বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে করতে চাই, বৃহস্পতিবার আরব বা ইসলামিক বিশ্বে খালি চোখে অর্ধচন্দ্র দেখা সম্ভব নয়, এমনকি টেলিস্কোপ ব্যবহার করেও সম্ভব নয়।

আমিরাতভিত্তিক সংস্থাটি জানায়, যেসব দেশে খালি চোখেই চাঁদ দেখা যায় বা এশিয়ার দেশগুলো, যারা টেলিস্কোপ দিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে; ধারণা করা হচ্ছে, সেসব জায়গায় রমজান মাস ৩০ দিন হবে এবং ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে শনিবার (২২ এপ্রিল)।

কিন্তু শেষপর্যন্ত আইএসি’র ধারণা ভুল প্রমাণ করে বৃহস্পতিবারই সৌদির আকাশে উদয় হলো ঈদের চাঁদ।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

সৌদিতে চাঁদ দেখা গেছে, ঈদ শুক্রবার

Update Time : ১০:১৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সৌদি আরবের আকাশে বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে, দেশটিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে আগামীকাল শুক্রবার (২১ এপ্রিল)। দিনভর নানা জল্পনা-কল্পনার পরে সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সৌদির চাঁদ দেখা কমিটি। খবর আরব নিউজের।

সৌদির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে ঈদুল ফিতরের ছুটি ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। ছুটি থাকবে চারদিন। আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে নিয়মিত সময়ে কাজ শুরু হবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুসলিমদের চাঁদ দেখার অনুরোধ জানিয়েছিল সৌদির চাঁদ দেখা কমিটি। চাঁদ দেখা যাওয়ায় দেশটিতে ২৯ রোজায় শেষ হলো পবিত্র রমজান মাস। শুক্রবারই ঈদের খুশিতে মেতে উঠবেন সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বসবাসকারী মুসলিমরা।

তবে বৃহস্পতিবার চাঁদ দেখা না যাওয়ায় আগামী শনিবার ঈদ উযাপনের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের অন্তত আটটি দেশ। এদের মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, থাইল্যান্ড, জাপান ও ফিলিপাইন।

শনিবার ঈদ উদযাপনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার ‘কিপার অব দ্য রুলারস সিল’ সৈয়দ দানিয়াল সৈয়দ আহমদ বলেছেন, ইয়াং ডিপারতুয়ান আগাং (প্যারামাউন্ট রুলার প্রধান) আল-সুলতান আবদুল্লাহ রিয়াতউদ্দিন আল-মুস্তফা বিল্লাহ শাহ মালয়েশীয় শাসকদের সঙ্গে আলোচনার পরে ঈদের তারিখ ঘোষণায় সম্মতি দিয়েছেন।

মালয়েশিয়ার মতো চাঁদ দেখা যায়নি প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়াতেও। তারাও ঈদুল ফিতর উদযাপন করবে আগামী শনিবার। ইন্দোনেশিয়ার ধর্ম মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কমপাস।

এশিয়ার আরেক দেশ ব্রুনেইও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় শনিবার ঈদুল ফিতর উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে। দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বৃহস্পতিবার খালি চোখে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, এমন কথা জানিয়েছিলেন ১৩টি আরব দেশের ২৫ জন জ্যোতির্বিদ্যা বিশেষজ্ঞ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদ্যা কেন্দ্র (আইএসি) এক বিবৃতিতে জানায়, এই বিবৃতি ঈদুল ফিতরের সঠিক তারিখ নির্ধারণের উদ্দেশ্যে নয়। কারণ এটি আইনগত ও বৈজ্ঞানিক বিবেচনাসহ বিভিন্ন কারণে দিয়ে প্রভাবিত। এ বিবৃতিটির উদ্দেশ্য হলো, চাঁদ দেখার বিষয়ে কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করা।

বিবৃতিতে বলা হয়, সূর্যাস্তের পর ক্ষণিকের জন্য আকাশে অর্ধচন্দ্রের উপস্থিতি এর দৃশ্যমানতার জন্য নির্ভরযোগ্য সূচক নয়। অর্থাৎ, সূর্যাস্তের পর সামান্য সময়ের জন্য আকাশে চাঁদ উঠলেও তা দেখা যাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

আইএসি বলেছিল, পুরোনো এবং নতুন সব মানদণ্ড বলছে, আরব বিশ্ব থেকে বৃহস্পতিবার খালি চোখে চাঁদ দেখা সম্ভব নয়। এই প্রত্যাশা কোনো ব্যক্তি বা দলের মতামত নয়, বরং বিশেষজ্ঞদের ঐকমত্য। সব বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে করতে চাই, বৃহস্পতিবার আরব বা ইসলামিক বিশ্বে খালি চোখে অর্ধচন্দ্র দেখা সম্ভব নয়, এমনকি টেলিস্কোপ ব্যবহার করেও সম্ভব নয়।

আমিরাতভিত্তিক সংস্থাটি জানায়, যেসব দেশে খালি চোখেই চাঁদ দেখা যায় বা এশিয়ার দেশগুলো, যারা টেলিস্কোপ দিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে; ধারণা করা হচ্ছে, সেসব জায়গায় রমজান মাস ৩০ দিন হবে এবং ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে শনিবার (২২ এপ্রিল)।

কিন্তু শেষপর্যন্ত আইএসি’র ধারণা ভুল প্রমাণ করে বৃহস্পতিবারই সৌদির আকাশে উদয় হলো ঈদের চাঁদ।