আমি কণ্ঠশ্রমিক পরিচয় দেই ভালোবেসে: কনকচাঁপা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:১৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ মে ২০২৩
  • 316

বিনোদন প্রতিবেদক
মহান মে দিবস আজ (১ মে)। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি এ দিনটি ব্যাপক গুরুত্বের সঙ্গে বাংলাদেশেও পালন করছে বিভিন্ন পেশার মানুষ। দেশের শ্রোতানন্দিত কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপাও এ দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যদা দিয়ে প্রতি বছরই বিভিন্ন ধরনের লেখা লেখেন।
নিজেকে কণ্ঠশ্রমিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা এবারের মে দিসব উপলক্ষেও একটি লেখা লিখেছেন। লেখাটি তার ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।
স্ট্যাটাসে কনকচাঁপা লেখেন, ইউএসএ থেকে একলা একলা ফিরছিলাম। এতো চেষ্টা করলাম হ্যান্ড লাগেজ ছোট রাখতে, পারলামই না। এতো বাক্সপেটরা দুহাতে, কাঁধে, মনে হচ্ছিল কোনো গ্রাম থেকে কাজ করার জন্য ট্রেনে করে ঢাকা আসছি।
দুবাইয়ে নয় ঘণ্টা ট্রানজিট, লাউঞ্জের প্লাটিনাম কার্ড হারিয়ে ফেলে নাজেহাল। দুবাই নেমে বোকার মতো জুবুথুবু হয়ে ট্রলি ঠেলছি, হঠাৎ একজোড়া চোখ আমাকে অনুসরণ করে সামনে এসে দাঁড়ালো। ম্যাডাম, সালাম, আপনি তো আপনিই নাকি? আমি হেসে বলি হ্যাঁ আমি আমিই।
আমি এতোই ক্লান্ত যে আমাকে চেনা আসলেই কষ্ট। ছেলেটি দুবাই এয়ারপোর্টে কাজ করে। আমার সব দুরাবস্থার কথা শুনে বললো চিন্তা করবেন না। আমি ব্যবস্থা করছি। আরও কয়েকজন এসে গেলো।
তাদের বিস্ফারিত নয়নে শ্রদ্ধা ভালোবাসা ঝরে পড়ছে। একটা জায়গায় আমাকে তারা বসালো। বললো এ জায়গাটা মারহাবা লাউঞ্জের মতোই নির্জন। আপনি এখানে আরাম করে বসেন। সামনে নামাজের জায়গা আছে। আমরা খাবার এনে দেই। না করতে করতেই তারা অনেক খাবার জুস পানি এনে দিয়ে বললো- আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। আমরা যথাসময়ে এসে একেবারে ফ্লাইটে উঠিয়ে দিয়ে আসব।
আমি বারবার বলছিলাম আমি পারবো, ওরা কিছুতেই নিশ্চিন্ত হতে পারছে না। আমি বললাম ছবি তুলবে তোমরা? হাঁফ ছেড়ে বেঁচে হেসে দাঁড়িয়ে গেলো। বললো- সাহসই পাচ্ছিলাম না!
আমি বললাম শোনো তোমরা আমার দেশের সোনার ছেলে। নিজেদের অজান্তেই দেশের জন্য অকাতরে কাজ করে দেশের উন্নতি করে যাচ্ছো। আজ আমিই তোমাদের সাথে ছবি তুলবো, আসো, দাঁড়াও।
তোমাদের সাথে একাত্বতা জানাতেই, তোমাদের ভালোবাসা জানাতেই, তোমাদের কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই আমি কনকচাঁপা নিজেকে তোমাদের কাতারে দাঁড়াতেই কণ্ঠশ্রমিক পরিচয় দেই ভালোবেসে। আমি তোমাদের ভালোবাসি বাবা। আল্লাহ তোমাদের কাজ সহজ করে দেক, প্রবাস জীবন আরামের করে দেক। আশীর্বাদ বাবারা!
আজ এই মে দিবসে পৃথিবীর সমস্ত শ্রমিকদের জন্য রইলো এই কণ্ঠশ্রমিকের হৃদয় থেকে উৎসারিত ভালোবাসা, লাল সালাম ও মায়ের দোয়া। লেখাটির শেষে কনকচাঁপা লেখেন, ‘কনকচাঁপা, কণ্ঠশ্রমিক’।
কনকচাঁপার লেখায় বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের মানুষের প্রতি দরদ, মমতা ও ভালোবাসা নিবিড়ভাবে ফুটে ওঠে। তার প্রতিটি মে দিবসের লেখা পড়লেই বোঝা যায়, তিনি যেন শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

আমি কণ্ঠশ্রমিক পরিচয় দেই ভালোবেসে: কনকচাঁপা

Update Time : ০২:১৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ মে ২০২৩

বিনোদন প্রতিবেদক
মহান মে দিবস আজ (১ মে)। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি এ দিনটি ব্যাপক গুরুত্বের সঙ্গে বাংলাদেশেও পালন করছে বিভিন্ন পেশার মানুষ। দেশের শ্রোতানন্দিত কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপাও এ দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যদা দিয়ে প্রতি বছরই বিভিন্ন ধরনের লেখা লেখেন।
নিজেকে কণ্ঠশ্রমিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা এবারের মে দিসব উপলক্ষেও একটি লেখা লিখেছেন। লেখাটি তার ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।
স্ট্যাটাসে কনকচাঁপা লেখেন, ইউএসএ থেকে একলা একলা ফিরছিলাম। এতো চেষ্টা করলাম হ্যান্ড লাগেজ ছোট রাখতে, পারলামই না। এতো বাক্সপেটরা দুহাতে, কাঁধে, মনে হচ্ছিল কোনো গ্রাম থেকে কাজ করার জন্য ট্রেনে করে ঢাকা আসছি।
দুবাইয়ে নয় ঘণ্টা ট্রানজিট, লাউঞ্জের প্লাটিনাম কার্ড হারিয়ে ফেলে নাজেহাল। দুবাই নেমে বোকার মতো জুবুথুবু হয়ে ট্রলি ঠেলছি, হঠাৎ একজোড়া চোখ আমাকে অনুসরণ করে সামনে এসে দাঁড়ালো। ম্যাডাম, সালাম, আপনি তো আপনিই নাকি? আমি হেসে বলি হ্যাঁ আমি আমিই।
আমি এতোই ক্লান্ত যে আমাকে চেনা আসলেই কষ্ট। ছেলেটি দুবাই এয়ারপোর্টে কাজ করে। আমার সব দুরাবস্থার কথা শুনে বললো চিন্তা করবেন না। আমি ব্যবস্থা করছি। আরও কয়েকজন এসে গেলো।
তাদের বিস্ফারিত নয়নে শ্রদ্ধা ভালোবাসা ঝরে পড়ছে। একটা জায়গায় আমাকে তারা বসালো। বললো এ জায়গাটা মারহাবা লাউঞ্জের মতোই নির্জন। আপনি এখানে আরাম করে বসেন। সামনে নামাজের জায়গা আছে। আমরা খাবার এনে দেই। না করতে করতেই তারা অনেক খাবার জুস পানি এনে দিয়ে বললো- আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। আমরা যথাসময়ে এসে একেবারে ফ্লাইটে উঠিয়ে দিয়ে আসব।
আমি বারবার বলছিলাম আমি পারবো, ওরা কিছুতেই নিশ্চিন্ত হতে পারছে না। আমি বললাম ছবি তুলবে তোমরা? হাঁফ ছেড়ে বেঁচে হেসে দাঁড়িয়ে গেলো। বললো- সাহসই পাচ্ছিলাম না!
আমি বললাম শোনো তোমরা আমার দেশের সোনার ছেলে। নিজেদের অজান্তেই দেশের জন্য অকাতরে কাজ করে দেশের উন্নতি করে যাচ্ছো। আজ আমিই তোমাদের সাথে ছবি তুলবো, আসো, দাঁড়াও।
তোমাদের সাথে একাত্বতা জানাতেই, তোমাদের ভালোবাসা জানাতেই, তোমাদের কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই আমি কনকচাঁপা নিজেকে তোমাদের কাতারে দাঁড়াতেই কণ্ঠশ্রমিক পরিচয় দেই ভালোবেসে। আমি তোমাদের ভালোবাসি বাবা। আল্লাহ তোমাদের কাজ সহজ করে দেক, প্রবাস জীবন আরামের করে দেক। আশীর্বাদ বাবারা!
আজ এই মে দিবসে পৃথিবীর সমস্ত শ্রমিকদের জন্য রইলো এই কণ্ঠশ্রমিকের হৃদয় থেকে উৎসারিত ভালোবাসা, লাল সালাম ও মায়ের দোয়া। লেখাটির শেষে কনকচাঁপা লেখেন, ‘কনকচাঁপা, কণ্ঠশ্রমিক’।
কনকচাঁপার লেখায় বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের মানুষের প্রতি দরদ, মমতা ও ভালোবাসা নিবিড়ভাবে ফুটে ওঠে। তার প্রতিটি মে দিবসের লেখা পড়লেই বোঝা যায়, তিনি যেন শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধি।