জাতিসংঘের সংস্থাগুলো অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪৮:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ নভেম্বর ২০২৩
  • 126

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। এক যৌথ বিবৃতিতে প্রধান সংস্থাগুলো জানিয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে। গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস বলেছেন, ইসরায়েল এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পরিস্থিতি দেখছে বিশ্ব। সেখানে প্রতিনিয়ত প্রাণহানি এবং লোকজনের বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ার ঘটনায় বিশ্ব হতবাক ও বিস্মিত।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এবং বিশ্ব খাদ্য সংস্থা, সেভ দ্য চিলড্রেনসহ বিভিন্ন সংস্থা দুপক্ষেরই প্রাণহানির কথা উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে গত ৭ অক্টোবর হামাস যাতের জিম্মি করেছে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে।
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপরেই গাজায় তীব্র আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। এখনও পর্যন্ত সংঘাত চলছেই।
গাজায় প্রতিদিনই বেসামরিক লোকজন প্রাণ হারাচ্ছে। এতে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। ফিলিস্তিনিরা তীব্র খাদ্য সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। সেখানে খাবার পানি, ওষুধ, জ্বালানির চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
এর আগে জানা যায় যে, গাজায় ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যকার সংঘাতের বিষয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করবে জাতিসংঘ। সিকিউরিটি কাউন্সিল রিপোর্ট (এসসিআর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং চীনের অনুরোধে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
কাউন্সিলের সদস্যরা বৈঠকে নিরাপত্তা পরিষদের ১০ জন নির্বাচিত সদস্যের পেশ করা ইসরায়েল ও গাজা সংক্রান্ত একটি নতুন প্রস্তাবনা বিবেচনা করতে পারে বলে জানা গেছে। যুদ্ধবিরতি বা মানবিক বিরতির আহ্বান জানানো চারটি প্রস্তাবে ইতোমধ্যেই কাউন্সিলের স্থায়ী সদস্যরা ভেটো দিয়েছেন। গত ২৫ অক্টোবর দুটি প্রস্তাবনা পাস করতে ব্যর্থ হয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ।
গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলায় শিশু মৃত্যুর সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে। অবরুদ্ধ এলাকাটিতে এখন পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ৭৭০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে। গত প্রায় এক মাস ধরে গাজায় বোমা হামলা ছালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। তাদের হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না আবাসিক ভবন, শরণার্থী শিবির, হাসপাতাল ও স্কুল। এতে সেখানে মৃত্যুর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ লাখ গাজাবাসীর মধ্যে ১৫ লাখই বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা পরিচালনা করছে। তবে অনেকেরই দাবি, ইসরায়েলি বাহিনী নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে। ফলে বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি অনেক বেশি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

জাতিসংঘের সংস্থাগুলো অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে

Update Time : ০২:৪৮:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ নভেম্বর ২০২৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। এক যৌথ বিবৃতিতে প্রধান সংস্থাগুলো জানিয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে। গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস বলেছেন, ইসরায়েল এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পরিস্থিতি দেখছে বিশ্ব। সেখানে প্রতিনিয়ত প্রাণহানি এবং লোকজনের বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ার ঘটনায় বিশ্ব হতবাক ও বিস্মিত।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এবং বিশ্ব খাদ্য সংস্থা, সেভ দ্য চিলড্রেনসহ বিভিন্ন সংস্থা দুপক্ষেরই প্রাণহানির কথা উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে গত ৭ অক্টোবর হামাস যাতের জিম্মি করেছে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে।
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপরেই গাজায় তীব্র আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। এখনও পর্যন্ত সংঘাত চলছেই।
গাজায় প্রতিদিনই বেসামরিক লোকজন প্রাণ হারাচ্ছে। এতে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। ফিলিস্তিনিরা তীব্র খাদ্য সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। সেখানে খাবার পানি, ওষুধ, জ্বালানির চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
এর আগে জানা যায় যে, গাজায় ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যকার সংঘাতের বিষয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করবে জাতিসংঘ। সিকিউরিটি কাউন্সিল রিপোর্ট (এসসিআর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং চীনের অনুরোধে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
কাউন্সিলের সদস্যরা বৈঠকে নিরাপত্তা পরিষদের ১০ জন নির্বাচিত সদস্যের পেশ করা ইসরায়েল ও গাজা সংক্রান্ত একটি নতুন প্রস্তাবনা বিবেচনা করতে পারে বলে জানা গেছে। যুদ্ধবিরতি বা মানবিক বিরতির আহ্বান জানানো চারটি প্রস্তাবে ইতোমধ্যেই কাউন্সিলের স্থায়ী সদস্যরা ভেটো দিয়েছেন। গত ২৫ অক্টোবর দুটি প্রস্তাবনা পাস করতে ব্যর্থ হয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ।
গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলায় শিশু মৃত্যুর সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে। অবরুদ্ধ এলাকাটিতে এখন পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ৭৭০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে। গত প্রায় এক মাস ধরে গাজায় বোমা হামলা ছালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। তাদের হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না আবাসিক ভবন, শরণার্থী শিবির, হাসপাতাল ও স্কুল। এতে সেখানে মৃত্যুর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ লাখ গাজাবাসীর মধ্যে ১৫ লাখই বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা পরিচালনা করছে। তবে অনেকেরই দাবি, ইসরায়েলি বাহিনী নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে। ফলে বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি অনেক বেশি।