সমন্বয়কের বার্তা দিলেন জয়, আপনারা মানুষের ঘৃণার মুখে থাকবেন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৪
  • 153


বিনোদন প্রতিবেদক
‘শত শত শিক্ষার্থী রাস্তায় গুলি খেয়ে মারা গেছেন, কত মায়ের কোল খালি হয়েছে আর আপনারা অনেকেই বাংলাদেশ টেলিভিশনে গিয়ে কেঁদেছেন! আপনারা সবসময় মানুষের তোপের মুখে থাকবেন, ঘৃণার মুখে থাকবেন।’ একজন সমন্বয়কের পক্ষে শিল্পীদের উদ্দেশে কথাগুলো বলেছেন অভিনেতা ও টিভি অনুষ্ঠান সঞ্চালক শাহরিয়ার নাজিম জয়। গতকাল নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া একটি ভিডিওতে তিনি এসব কথা বলেছেন।
ওই ভিডিওতে জয় বলেন, ‘একজন নারী সমন্বয়কের কাছে জানতে চেয়েছিলাম শিল্পীদের ভবিষ্যত করণীয় কী বলে আপনি মনে করেন। জবাবে ওই সমন্বয়ক আমাকে বলেছেন, “তিনি খুব সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, আপনাদের মাঝে অনেক শিল্পী রয়েছেন যারা অন্যায় করেছেন। আন্দোলনের সময় একে অন্য খাতে প্রবাহিত করার জন্য অনেক রকম পোস্ট করেছেন। এই আন্দোলনকে থামানোর, দমানোর চেষ্টা করেছেন। সরকারকে সহযোগিতা করেছেন সরকারের সুবিধাভোগী হিসেবে।’
তিনি আরও বলেছেন, আপনারা অনেকেই বাংলাদেশ টেলিভিশনে গিয়ে কেঁদেছেন। অথচ শত শত হাজার হাজার স্টুডেন্ট রাস্তায় গুলি খেয়ে মারা গেছেন, কত মায়ের কোল খালি হয়েছে। অনেকেই তা বোঝেনি, সরকারের চামচামি করেছেন। আমরা জানি সবাই তা করেনি। অনেকে চুপ ছিল, অনেকে মাঠে নেমেছে। একশ্রেণির শিল্পীদের কারণে সব শিল্পী সবসময় আপনারা মানুষের তোপের মুখে থাকবেন, ঘৃণার দৃষ্টিতে থাকবেন।’
জয় তাকে প্রশ্ন করেন, তাহলে করণীয় কী? জবাবে ওই সমন্বয়ক বলেন, ‘আপনারা এককভাবে বা সাংগঠনিকভাবে জাতির কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। ক্ষমা চান। কিংবা বিজ্ঞপ্তি দেন, তাহলে মানুষ আপনাদের ক্ষমা করে দেবে। ক্ষমা চাওয়া ছাড়া আপনাদের আসলে আর কোনো পথ নেই। যে ইমেজ নষ্ট হয়েছে, সেটা ফিরে পেতে ক্ষমার বিকল্প কিছু নেই। কারণ আপনারা সেই অন্যায়কারী নন যাদের সরাসরি জেল-জরিমানা হবে। যারা এমপি-মন্ত্রী, তাদের বিষয়টা আলাদা। রাজনৈতিক আদর্শ থাকতে পারে। যারা ছাত্র হত্যার ইন্ধনদাতা হিসেবে কাজ করেছে, তারা কীভাবে ক্ষমা ছাড়া এই জাতির কাছে মুখ দেখাবে।’
ওই সমন্বয়কের সঙ্গে সুর মিলিয়ে জয় বলেন, আমার মনে হয়েছে তার কথাটা যুক্তিযুক্ত। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করে নতুন বাংলাদেশে আমাদের একটি স্টেটমেন্ট আসা উচিত। আমি সেই ক্ষমতা রাখি না। দল যে কেউ করতে পারেন, জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে যারা ছাত্রদের বিপক্ষে ফ্রন্ট লাইনার ছিলেন, তাদের উচিত জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া। এ ছাড়া কোনো উপায় নাই। আমি কোনো অন্যায় করিনি, আমি ছাত্রছাত্রীদের বিপক্ষে কখনই ছিলাম না। আমি চুপচাপ ছিলাম। বুদ্ধিদীপ্ত স্ট্যাটাস দেওয়ার চেষ্টা করেছি, যে স্ট্যাটাসে সরকারকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছিল, দাবি মেনে নেন।’
তেসরা আগস্ট শাহবাগে যখন ছাত্রছাত্রীরা একত্র হয়েছিল, দেখেছি একটি গান ‘ধনধান্যে পুষ্পে ভরা’ গাইছেন সবাই। আমি ওই গানটি শেয়ার দিয়েছি। এরচেয়ে বেশিকিছু আমি করতে পারিনি। এ জন্য আমি দুঃখিত, লজ্জিত, অনুতপ্ত। নতুন বাংলাদেশে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী, আমাদের ক্ষমা করে দেবেন।’
ওই ভিডিওতে বেগম খালেদা জিয়ার হত্যাচেষ্টার মামলার অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন জয়। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমার নামে মামলা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার হত্যাচেষ্টার মামলা। যেখানে আমাকে আসামি করা হয়েছে। আমি মামলার এজাহার পড়েছি, যেখানে লেখা আছে, ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টায় অনেকের সঙ্গে আমিও ছিলাম। বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িতে হামলা করেছি, তাকে হত্যার চেষ্টা করেছি। খুব দুঃখ পেয়েছি। জীবনে কখনো কারো গায়ে হাত দেওয়ার সাহস পাইনি। কারো সঙ্গে ঝগড়া বিবাদেও যাইনি। সেখানে এমন একটি ঘটনায় আমি মর্মাহত। খুবই কষ্ট পেয়েছি। আমার পরিবারের মানুষ চিন্তিত হয়ে পড়েছে।’

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

সমন্বয়কের বার্তা দিলেন জয়, আপনারা মানুষের ঘৃণার মুখে থাকবেন

Update Time : ০৫:০৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৪


বিনোদন প্রতিবেদক
‘শত শত শিক্ষার্থী রাস্তায় গুলি খেয়ে মারা গেছেন, কত মায়ের কোল খালি হয়েছে আর আপনারা অনেকেই বাংলাদেশ টেলিভিশনে গিয়ে কেঁদেছেন! আপনারা সবসময় মানুষের তোপের মুখে থাকবেন, ঘৃণার মুখে থাকবেন।’ একজন সমন্বয়কের পক্ষে শিল্পীদের উদ্দেশে কথাগুলো বলেছেন অভিনেতা ও টিভি অনুষ্ঠান সঞ্চালক শাহরিয়ার নাজিম জয়। গতকাল নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া একটি ভিডিওতে তিনি এসব কথা বলেছেন।
ওই ভিডিওতে জয় বলেন, ‘একজন নারী সমন্বয়কের কাছে জানতে চেয়েছিলাম শিল্পীদের ভবিষ্যত করণীয় কী বলে আপনি মনে করেন। জবাবে ওই সমন্বয়ক আমাকে বলেছেন, “তিনি খুব সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, আপনাদের মাঝে অনেক শিল্পী রয়েছেন যারা অন্যায় করেছেন। আন্দোলনের সময় একে অন্য খাতে প্রবাহিত করার জন্য অনেক রকম পোস্ট করেছেন। এই আন্দোলনকে থামানোর, দমানোর চেষ্টা করেছেন। সরকারকে সহযোগিতা করেছেন সরকারের সুবিধাভোগী হিসেবে।’
তিনি আরও বলেছেন, আপনারা অনেকেই বাংলাদেশ টেলিভিশনে গিয়ে কেঁদেছেন। অথচ শত শত হাজার হাজার স্টুডেন্ট রাস্তায় গুলি খেয়ে মারা গেছেন, কত মায়ের কোল খালি হয়েছে। অনেকেই তা বোঝেনি, সরকারের চামচামি করেছেন। আমরা জানি সবাই তা করেনি। অনেকে চুপ ছিল, অনেকে মাঠে নেমেছে। একশ্রেণির শিল্পীদের কারণে সব শিল্পী সবসময় আপনারা মানুষের তোপের মুখে থাকবেন, ঘৃণার দৃষ্টিতে থাকবেন।’
জয় তাকে প্রশ্ন করেন, তাহলে করণীয় কী? জবাবে ওই সমন্বয়ক বলেন, ‘আপনারা এককভাবে বা সাংগঠনিকভাবে জাতির কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। ক্ষমা চান। কিংবা বিজ্ঞপ্তি দেন, তাহলে মানুষ আপনাদের ক্ষমা করে দেবে। ক্ষমা চাওয়া ছাড়া আপনাদের আসলে আর কোনো পথ নেই। যে ইমেজ নষ্ট হয়েছে, সেটা ফিরে পেতে ক্ষমার বিকল্প কিছু নেই। কারণ আপনারা সেই অন্যায়কারী নন যাদের সরাসরি জেল-জরিমানা হবে। যারা এমপি-মন্ত্রী, তাদের বিষয়টা আলাদা। রাজনৈতিক আদর্শ থাকতে পারে। যারা ছাত্র হত্যার ইন্ধনদাতা হিসেবে কাজ করেছে, তারা কীভাবে ক্ষমা ছাড়া এই জাতির কাছে মুখ দেখাবে।’
ওই সমন্বয়কের সঙ্গে সুর মিলিয়ে জয় বলেন, আমার মনে হয়েছে তার কথাটা যুক্তিযুক্ত। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করে নতুন বাংলাদেশে আমাদের একটি স্টেটমেন্ট আসা উচিত। আমি সেই ক্ষমতা রাখি না। দল যে কেউ করতে পারেন, জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে যারা ছাত্রদের বিপক্ষে ফ্রন্ট লাইনার ছিলেন, তাদের উচিত জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া। এ ছাড়া কোনো উপায় নাই। আমি কোনো অন্যায় করিনি, আমি ছাত্রছাত্রীদের বিপক্ষে কখনই ছিলাম না। আমি চুপচাপ ছিলাম। বুদ্ধিদীপ্ত স্ট্যাটাস দেওয়ার চেষ্টা করেছি, যে স্ট্যাটাসে সরকারকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছিল, দাবি মেনে নেন।’
তেসরা আগস্ট শাহবাগে যখন ছাত্রছাত্রীরা একত্র হয়েছিল, দেখেছি একটি গান ‘ধনধান্যে পুষ্পে ভরা’ গাইছেন সবাই। আমি ওই গানটি শেয়ার দিয়েছি। এরচেয়ে বেশিকিছু আমি করতে পারিনি। এ জন্য আমি দুঃখিত, লজ্জিত, অনুতপ্ত। নতুন বাংলাদেশে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী, আমাদের ক্ষমা করে দেবেন।’
ওই ভিডিওতে বেগম খালেদা জিয়ার হত্যাচেষ্টার মামলার অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন জয়। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমার নামে মামলা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার হত্যাচেষ্টার মামলা। যেখানে আমাকে আসামি করা হয়েছে। আমি মামলার এজাহার পড়েছি, যেখানে লেখা আছে, ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টায় অনেকের সঙ্গে আমিও ছিলাম। বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িতে হামলা করেছি, তাকে হত্যার চেষ্টা করেছি। খুব দুঃখ পেয়েছি। জীবনে কখনো কারো গায়ে হাত দেওয়ার সাহস পাইনি। কারো সঙ্গে ঝগড়া বিবাদেও যাইনি। সেখানে এমন একটি ঘটনায় আমি মর্মাহত। খুবই কষ্ট পেয়েছি। আমার পরিবারের মানুষ চিন্তিত হয়ে পড়েছে।’