আইএমফের ঋণ পেতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ধরনা পাকিস্তানের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:০১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৩
  • 143

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানে বর্তমানে চলছে অর্থনৈতিক দুরাবস্থা। দেশটির বৈদশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমতে কমতে তলানিতে ঠেকেছে। আর এখন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ পেতে দৌড়ঝাপ করছে পাকিস্তান। তবে আইএমএফের কঠিন শর্তের কারণে এ ঋণ বিতরণ থমকে আছে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ বুধবার (২৫ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পাকিস্তানকে যেন আইএমএফ সহজ শর্তে ঋণ দেয় সেটি নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ধরনা দিয়েছেন পাক অর্থমন্ত্রী ইশহাক দার।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের এশিয়া বিষয়ক উপ সহকারী সচিব রবার্ট কাপরোথের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যেন কূটনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে পাকিস্তানকে এ ঋণ পেতে সহায়তা করে।

বুধবার এই মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে বসেন অর্থমন্ত্রী ইশহাক দার। সেখানেই এই অনুরোধ জানান তিনি।

আইএমএফের ঋণ পেতে হলে পাকিস্তানে বৃদ্ধি করতে হবে জ্বালানির মূল্য। এছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে কমাতে হবে সরকারি ব্যয়। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ আসন্ন নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে এবং রাজনৈতিক দিক বিবেচনা করে এ ধরনের ঝুঁকি নিতে চান না। এমনিতেই করের ভারে জর্জরিত মানুষের ওপর আরও করের বোঝা চাপাতে চান না তিনি।

জিও নিউজ জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তা রবার্ট কাপরোথকে অর্থমন্ত্রী ইশহাক দার জানিয়েছেন, তারা ক্ষমতায় আসার আগেই পাকিস্তানের অর্থনীতি দুর্বল ছিল। এখন এটি ঠিক করার চেস্টা করছেন। এছাড়া গত বছর ভয়াবহ বন্যার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।

এর জবাবে রবার্ট কাপরোথ জানিয়েছেন, তিনি পাকিস্তান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব বোঝেন এবং বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক নীতির প্রতি বিশ্বাস আছে তাদের।

একটি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান সরকার এবং আইএমএফের মধে আলোচনা চলছে। এ সপ্তাহেও দুই পক্ষের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান হয়েছে। তবে আইএমএফ শর্ত শিথিল করার ক্ষেত্রে কোনো আগ্রহ দেখায়নি।

পাকিস্তান এবং আইএমএফের মধ্যে যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক চলছে সেটি হলো ‘বিনিময় হার।’ আইএমফ বলছে, বর্তমানে যে বিনিময় হার রয়েছে এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না।

যদিও পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেছেন ঋণ পেতে আইএমএফের সব শর্ত মেনে নিতে প্রস্তুত আছেন তিনি। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে এটি তার জন্য সম্ভব হচ্ছে না।

তবে জিও নিউজের কাছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, আইএমএফের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হচ্ছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

ইতালিতে হামলার ঘটনায় বাঁধনের মামলা

আইএমফের ঋণ পেতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ধরনা পাকিস্তানের

Update Time : ০১:০১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানে বর্তমানে চলছে অর্থনৈতিক দুরাবস্থা। দেশটির বৈদশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমতে কমতে তলানিতে ঠেকেছে। আর এখন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ পেতে দৌড়ঝাপ করছে পাকিস্তান। তবে আইএমএফের কঠিন শর্তের কারণে এ ঋণ বিতরণ থমকে আছে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ বুধবার (২৫ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পাকিস্তানকে যেন আইএমএফ সহজ শর্তে ঋণ দেয় সেটি নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ধরনা দিয়েছেন পাক অর্থমন্ত্রী ইশহাক দার।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের এশিয়া বিষয়ক উপ সহকারী সচিব রবার্ট কাপরোথের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যেন কূটনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে পাকিস্তানকে এ ঋণ পেতে সহায়তা করে।

বুধবার এই মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে বসেন অর্থমন্ত্রী ইশহাক দার। সেখানেই এই অনুরোধ জানান তিনি।

আইএমএফের ঋণ পেতে হলে পাকিস্তানে বৃদ্ধি করতে হবে জ্বালানির মূল্য। এছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে কমাতে হবে সরকারি ব্যয়। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ আসন্ন নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে এবং রাজনৈতিক দিক বিবেচনা করে এ ধরনের ঝুঁকি নিতে চান না। এমনিতেই করের ভারে জর্জরিত মানুষের ওপর আরও করের বোঝা চাপাতে চান না তিনি।

জিও নিউজ জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তা রবার্ট কাপরোথকে অর্থমন্ত্রী ইশহাক দার জানিয়েছেন, তারা ক্ষমতায় আসার আগেই পাকিস্তানের অর্থনীতি দুর্বল ছিল। এখন এটি ঠিক করার চেস্টা করছেন। এছাড়া গত বছর ভয়াবহ বন্যার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।

এর জবাবে রবার্ট কাপরোথ জানিয়েছেন, তিনি পাকিস্তান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব বোঝেন এবং বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক নীতির প্রতি বিশ্বাস আছে তাদের।

একটি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান সরকার এবং আইএমএফের মধে আলোচনা চলছে। এ সপ্তাহেও দুই পক্ষের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান হয়েছে। তবে আইএমএফ শর্ত শিথিল করার ক্ষেত্রে কোনো আগ্রহ দেখায়নি।

পাকিস্তান এবং আইএমএফের মধ্যে যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক চলছে সেটি হলো ‘বিনিময় হার।’ আইএমফ বলছে, বর্তমানে যে বিনিময় হার রয়েছে এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না।

যদিও পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেছেন ঋণ পেতে আইএমএফের সব শর্ত মেনে নিতে প্রস্তুত আছেন তিনি। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে এটি তার জন্য সম্ভব হচ্ছে না।

তবে জিও নিউজের কাছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, আইএমএফের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হচ্ছে।