পাক-আফগান সীমান্তের ডুরান্ড লাইনে পাকিস্তানের সেনাচৌকিতে হামলার পর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ সেই যুদ্ধেরই অংশ।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই ঘোষণা দেন। এক্সবার্তায় তিনি বলেন, “আমাদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন আপনাদের সঙ্গে আমাদের কেবল যুদ্ধ হবে… পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সাগর থেকে ভেসে আসেনি। আমরা আপনাদের প্রতিবেশী: আপনাদের মতিগতি আমরা খুব ভালোভাবে জানি।”
এই বার্তা পোস্ট করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আফগানিস্তান-এর রাজধানী কাবুল এবং পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশে আফগান সামরিক বাহিনীর স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী।
শুক্রবার ভোরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ-এর বিদেশি সংবাদমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি এক্সে জানান, রাত ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে পিএএফ ও স্থলবাহিনী যৌথভাবে অভিযান শুরু করেছে। অভিযানের অংশ হিসেবে কাবুল এবং পাকতিয়া ও কান্দাহারের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।
তিনি দাবি করেন, পিএএফের বোমাবর্ষণে আফগান সেনাবাহিনীর দুটি সেনা সদরদপ্তর, তিনটি ব্রিগেড সদরদপ্তর, দুটি গোলাবারুদের ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি, তিনটি ব্যাটালিয়ন সদরদপ্তর, দুটি সেক্টর সদরদপ্তর, ৮০টিরও বেশি ট্যাংক এবং বিপুল সংখ্যক আর্টিলারি ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি ২৭টি সেনাচৌকি ধ্বংস এবং ৯টি চৌকি দখলের দাবি করা হয়েছে।
এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে বোমাবর্ষণ করেছিল পাকিস্তান। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর আন্তঃসংযোগ দপ্তর আইএসপিআর জানায়, তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর ঘাঁটি লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার দাবি করে, জঙ্গিঘাঁটি নয়, লোকালয়ে হামলা চালানো হয়েছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে ডুরান্ড লাইনে পাকিস্তানি সেনাচৌকিতে হামলায় কয়েকজন সেনা নিহত ও অপহৃত হওয়ার পরই পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরু করে পাকিস্তান।
ডেস্ক নিউজ 





















