খুলনা নগরীর বয়রা এলাকায় ওজোপাডিকোর প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সময় চারটি প্রকল্পের কিছু কাগজপত্র সংগ্রহ করেছে তারা। এসব প্রকল্পে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে কি না তা পর্যালোচনা করবে দুনীতিবিরোধী সংস্থাটি।
রবিবার বেলা একটা থেকে তিনটা পর্যন্ত দুদকের একটি টিম দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালায়।
অভিযানে নেতৃত্বে দেওয়া দুদকের সহকারী পরিচালক রকিবুল ইসলাম জানান, ওই কার্যালয় থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার চারটি প্রকল্পের বিভিন্ন কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া আরও কিছু কাগজপত্র সরবরাহের নির্দেশনা দেন তারা।
জানা যায়, গত ১৬ বছরে সংস্থাটি ওই চারটি প্রকল্পের দুটি বাস্তবায়ন করে এবং আরও দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর ব্যয় ৫ হাজার কোটি টাকা।
দুদকের সহকারী পরিচালক বলেন, এই প্রকল্পগুলোতে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে বলে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তাই ওজোপাডিকো থেকে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু কাগজপত্র নেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তারা সব কাগজপত্র দিতে পারেনি, সোমবার বাকি কাগজপত্র দেবে বলে জানায়।
মনপুরা দ্বীপে চলমান ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ ও সম্প্রসারণ প্র ল্পের কথা উল্লেখ করে দুদকের সহকারী পরিচালক বলেন, সেখানে বলা হয়েছে ওয়েস্টার্ন রিনিউয়্যাল এনার্জি নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বিদ্যুৎ কেনা হবে। ইউনিট প্রতি ক্রয়মূল্য ২১ টাকা ২৫ পয়সা। কিন্তু গ্রাহকদের কাছে তা বিক্রি করা হবে ৪ থেকে ৮ টাকা করে। এর ফলে সরকারকে লোকসান গুনতে হবে।
সাবমেরিন ক্যাবল বা অন্য কোনো উপায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ না নিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাড়তি দামে কেন বিদ্যুৎ কেনা হবে, তা ওজোপাডিকোর কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয় অভিযানের সময়। তারা বলেছে, এটা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি কাগজপত্র পেলে তা পর্যালোচনা করে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানান দুদকের সহকারী পরিচালক রকিবুল ইসলাম।
স্টাফ রিপোর্টার 
















