Dhaka ০১:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনায় বিবাহ মেলা’র নামে আই-ওয়াশ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • 823

স্টাফ রিপোর্টারঃ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে নারীরা। অনলাইন প্লাটফর্ম কে কাজে লাগিয়ে নারীরা এখন ঘরে বসেই কেনাকাটা করছে। আর খুলনার নারীরা যেন একধাপ এগিয়ে। এছাড়া এই প্লাটফর্মকে ব্যবহার স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেকেই।  বৈশাখী মেলা কিংবা বসন্ত বরন। যেকোনো উৎসবকে কেন্দ্র করেই নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে চলে মেলা। বাহারী ব্যানার ও চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আকৃষ্ট করা হয় উদ্যোক্তাদের।সামান্য লাভের আশায় সংসারের খরচ থেকে কিছু টাকা বাচিয়ে অথবা ধার দেনা করে উদ্যোক্তাগন এসকল মেলায় অংশগ্রহন করে। আর সেই মেলা নিয়ে যদি প্রতারনা চলে, তবে দুঃখের অন্ত থাকে না।

এমনই এক ঘটনা ঘটতে চলেছে বিবাহ মেলা নামক একটি ইভেন্টে। খুলনার কে ডি এ এপ্রোচ রোডস্থ বিজয়গাথা কমিউনিটি সেন্টারে ৭, ৮ ও ৯ মার্চ কথিত এই মেলা চলার কথা থাকলেও , এখনো পর্যন্ত দেওয়া হয়নি অনুমতি। খুলনার একটি বিশেষ পরিবারের নাম ভাঙ্গিয়ে উদ্যোক্তাদেরকে আইওয়াশ করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিশেষ সূত্রে জানা যায়, বিবাহ মেলার আয়োজক প্রত্যেক ব্যবসায়ীর নিকট থেকে অগ্রিম টাকা নিয়েছেন। অনুমতি না পেয়েও আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন এসকল ব্যবসায়ীদের । গনযোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আকর্ষনীয় ব্যানারের মাধ্যমে স্টল বুকিং এর আহবান জানানো হচ্ছে।  দোকান বুকিং এর নামে নেওয়া হচ্ছে অগ্রিম টাকা। একটি দোকান বাবদ উদ্যোক্তাদের নিকট থেকে সর্বনিন্ম নেওয়া হয়  ৫ হাজার ৫শত টাকা। যার ১০ শতাংশ বুকিং এর সময় পরিশোধ করতে হয়। তবে, কোনো কারনে মেলা অনুষ্ঠিত না হলে টাকা কেটে নেওয়া হয় বলে জানান এক ব্যবসায়ী।

সোহেল নামক এক ব্যাক্তি জানান, “আমার স্ত্রী বিগত এক বছর যাবত এসকল মেলায় নারী উদ্যোক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ করে। তবে অগ্রিম টাকা দিয়েও যদি মেলায় অংশগ্রহণ করতে না পারে। তাহলে টাকা কর্তন করা হয়। আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হব।“

তবে শাঁকের করাতের স্বীকার এসকল নারী উদ্যোক্তাদের স্বান্তনার বাণী দিয়ে রাখছেন আয়োজক। মেলার  অনুমতি না পেলেও সকলের নিকট মিথ্যা প্রচার করছেন প্রতিনিয়ত। আকর্ষনীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে স্টল বুকিং এর জন্য চালানো হচ্ছে নানা প্রচার প্রচারনা।  এই প্রচারনায় অবিভূত হয়ে কাপড়, গৃহসজ্জা পণ্য, খাদ্য ও খাদ্যপন্য, গহনা, সাজ-সজ্জা পন্যসহ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ব্যবসায়ীরা দূর-দুরান্ত থেকে পন্য অর্ডার করছে। মেলায় এই সকল পন্য বিক্রয়ের আশায় অনেকে ধার-দেনা করে ঢাকা থেকে মালামাল ক্রয় করেছে। সামান্য মুনাফার আশায় কষ্টার্জিত টাকা বিনিয়োগ করে, মেলার অনুমতি না পেলে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন বলে জানান ব্যবসায়ীগন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নারী উদ্যোক্তা বলেন, “মেলায় প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে আমি লক্ষাধিক টাকার মালামাল ক্রয় করেছি। মেলা অনুষ্ঠিত না হলে, আমরা শেষ হয়ে যাবো।“

তবে মেলার অনুমতির ব্যাপারে কোনো ভাবেই মুখ খুলছেন না বিবাহ মেলা ইভেন্টের আয়োজক উম্মুর রেদা। অনুমতি না পেলেও ফেসবুকে একটি বিশেষ ছবি পোস্ট করে হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা। সকল উদ্যোক্তাদেরকে আশার আলো দেখিয়ে যাচ্ছেন তিনি। মেলার অনুমতিপত্র চাইলে করছেন নানা রকম তাল-বাহানা।

এই বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে, তিনি পরে যোগাযোগ করবেন বলে এড়িয়ে যান। উম্মুর রেদা এই প্রতিবেদককে বলেন, “আমাদের অবশ্যই অনুমতিপত্র আছে।“ অনুমতিপত্রটি দেখানোর কথা বললে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে পরে কথা বলবো।“

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কে এম পি) সুত্রে জানা যায়,  বিবাহ মেলা নামক কোনো ইভেন্টের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এছাড়া ৭,৮ ও ৯ মার্চে অনুষ্ঠিতব্য এই মেলার অনুমতি নিতে হলে সিটি মেয়রের অনাপত্তিপত্র লাগবে বলে জানায় সূত্রটি।

কে এম পি’র সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান রাশিদা বেগম বলেন, “বিবাহ মেলার অনুমতি প্রদান করা হয়নি। কে সি সি মেয়র ও খুলনা চেম্বার অব কমার্স’র ছাড়পত্র ব্যাতীত অনুমতি দেওয়া হবে না।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

খুলনায় বিবাহ মেলা’র নামে আই-ওয়াশ

Update Time : ০৭:২৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টারঃ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে নারীরা। অনলাইন প্লাটফর্ম কে কাজে লাগিয়ে নারীরা এখন ঘরে বসেই কেনাকাটা করছে। আর খুলনার নারীরা যেন একধাপ এগিয়ে। এছাড়া এই প্লাটফর্মকে ব্যবহার স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেকেই।  বৈশাখী মেলা কিংবা বসন্ত বরন। যেকোনো উৎসবকে কেন্দ্র করেই নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে চলে মেলা। বাহারী ব্যানার ও চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আকৃষ্ট করা হয় উদ্যোক্তাদের।সামান্য লাভের আশায় সংসারের খরচ থেকে কিছু টাকা বাচিয়ে অথবা ধার দেনা করে উদ্যোক্তাগন এসকল মেলায় অংশগ্রহন করে। আর সেই মেলা নিয়ে যদি প্রতারনা চলে, তবে দুঃখের অন্ত থাকে না।

এমনই এক ঘটনা ঘটতে চলেছে বিবাহ মেলা নামক একটি ইভেন্টে। খুলনার কে ডি এ এপ্রোচ রোডস্থ বিজয়গাথা কমিউনিটি সেন্টারে ৭, ৮ ও ৯ মার্চ কথিত এই মেলা চলার কথা থাকলেও , এখনো পর্যন্ত দেওয়া হয়নি অনুমতি। খুলনার একটি বিশেষ পরিবারের নাম ভাঙ্গিয়ে উদ্যোক্তাদেরকে আইওয়াশ করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিশেষ সূত্রে জানা যায়, বিবাহ মেলার আয়োজক প্রত্যেক ব্যবসায়ীর নিকট থেকে অগ্রিম টাকা নিয়েছেন। অনুমতি না পেয়েও আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন এসকল ব্যবসায়ীদের । গনযোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আকর্ষনীয় ব্যানারের মাধ্যমে স্টল বুকিং এর আহবান জানানো হচ্ছে।  দোকান বুকিং এর নামে নেওয়া হচ্ছে অগ্রিম টাকা। একটি দোকান বাবদ উদ্যোক্তাদের নিকট থেকে সর্বনিন্ম নেওয়া হয়  ৫ হাজার ৫শত টাকা। যার ১০ শতাংশ বুকিং এর সময় পরিশোধ করতে হয়। তবে, কোনো কারনে মেলা অনুষ্ঠিত না হলে টাকা কেটে নেওয়া হয় বলে জানান এক ব্যবসায়ী।

সোহেল নামক এক ব্যাক্তি জানান, “আমার স্ত্রী বিগত এক বছর যাবত এসকল মেলায় নারী উদ্যোক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ করে। তবে অগ্রিম টাকা দিয়েও যদি মেলায় অংশগ্রহণ করতে না পারে। তাহলে টাকা কর্তন করা হয়। আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হব।“

তবে শাঁকের করাতের স্বীকার এসকল নারী উদ্যোক্তাদের স্বান্তনার বাণী দিয়ে রাখছেন আয়োজক। মেলার  অনুমতি না পেলেও সকলের নিকট মিথ্যা প্রচার করছেন প্রতিনিয়ত। আকর্ষনীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে স্টল বুকিং এর জন্য চালানো হচ্ছে নানা প্রচার প্রচারনা।  এই প্রচারনায় অবিভূত হয়ে কাপড়, গৃহসজ্জা পণ্য, খাদ্য ও খাদ্যপন্য, গহনা, সাজ-সজ্জা পন্যসহ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ব্যবসায়ীরা দূর-দুরান্ত থেকে পন্য অর্ডার করছে। মেলায় এই সকল পন্য বিক্রয়ের আশায় অনেকে ধার-দেনা করে ঢাকা থেকে মালামাল ক্রয় করেছে। সামান্য মুনাফার আশায় কষ্টার্জিত টাকা বিনিয়োগ করে, মেলার অনুমতি না পেলে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন বলে জানান ব্যবসায়ীগন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নারী উদ্যোক্তা বলেন, “মেলায় প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে আমি লক্ষাধিক টাকার মালামাল ক্রয় করেছি। মেলা অনুষ্ঠিত না হলে, আমরা শেষ হয়ে যাবো।“

তবে মেলার অনুমতির ব্যাপারে কোনো ভাবেই মুখ খুলছেন না বিবাহ মেলা ইভেন্টের আয়োজক উম্মুর রেদা। অনুমতি না পেলেও ফেসবুকে একটি বিশেষ ছবি পোস্ট করে হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা। সকল উদ্যোক্তাদেরকে আশার আলো দেখিয়ে যাচ্ছেন তিনি। মেলার অনুমতিপত্র চাইলে করছেন নানা রকম তাল-বাহানা।

এই বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে, তিনি পরে যোগাযোগ করবেন বলে এড়িয়ে যান। উম্মুর রেদা এই প্রতিবেদককে বলেন, “আমাদের অবশ্যই অনুমতিপত্র আছে।“ অনুমতিপত্রটি দেখানোর কথা বললে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে পরে কথা বলবো।“

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কে এম পি) সুত্রে জানা যায়,  বিবাহ মেলা নামক কোনো ইভেন্টের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এছাড়া ৭,৮ ও ৯ মার্চে অনুষ্ঠিতব্য এই মেলার অনুমতি নিতে হলে সিটি মেয়রের অনাপত্তিপত্র লাগবে বলে জানায় সূত্রটি।

কে এম পি’র সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান রাশিদা বেগম বলেন, “বিবাহ মেলার অনুমতি প্রদান করা হয়নি। কে সি সি মেয়র ও খুলনা চেম্বার অব কমার্স’র ছাড়পত্র ব্যাতীত অনুমতি দেওয়া হবে না।”