মূল শিক্ষার্থী বহিষ্কার, পলাতক ভুয়া পরীক্ষার্থী
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
খুলনা রুপসায় এইচ এস সি পরীক্ষায় ইউ পি চেয়ারম্যানের প্রক্সি পরীক্ষা দিতে গিয়ে একজন কলেজ শিক্ষার্থী হাতে নাতে ধরা পড়েছে। শুক্রবার ২৯ সেপ্টেম্বর রুপসা কলেজে অনুষ্ঠিত উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন ইতিহাস পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় খুলনা বটিয়াঘাটার ৫ নং ভান্ডারকোট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ওবাইদুল্লাহকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়। ভুয়া শিক্ষার্থী কলেজছাত্র নাঈম মুয়াল্লী তৎক্ষনাৎ পালিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার ২৮ সেপ্টেম্বর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ভান্ডারকোট ইউ পি চেয়ারম্যানের পক্ষে রুপসা কলেজে নাইম নামক একজন কলেজছাত্র নিয়মিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। পরদিন শুক্রবার দুপুর ২ টায় কলেজে খোজ নিয়ে জানা যায়, এইচ এস সি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিল ৭০ জন , অনুপস্থিত ৬ জন। এর মধ্যে শেখ ওবায়দুল্লাহ নামক ব্যাক্তি অনুপস্থিত থাকলেও , পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রতিটি কাগজে যথাযথ রয়েছে তার নাম ও স্বাক্ষর ।দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে মূল ঘটনা। জানা যায়, নাঈম নামক ঐ কলেজ ছাত্র চেয়ারম্যান ওবায়দুলের হয়ে একাধিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। শিক্ষকের সহযোগিতায় পরীক্ষার হলে গিয়ে চেয়ারম্যানের নাম ও পরীক্ষার রোল নম্নর যাচাই করলে দেখা যায় পরিচয়পত্রের ছবির সাথে কথিত পরীক্ষার্থীর চেহারার কোনো মিল নেই। এসময় নিজেকে শেখ ওবাইদুল্লাহ দাবি করলেও একপর্যায়ে স্বীকার করেন তিনি প্রক্সি দিতে এসেছেন। নাঈম জানান, তিনি খুলনা সরকারী কমার্স কলেজের অনার্সে অধ্যায়নরত রয়েছেন । চেয়ারম্যানের সাথে সখ্যতা থাকায় এই কাজে রাজি হয়েছেন তিনি। ভাণ্ডারকোট বাজারে তিনি একটি কোচিং সেন্টার চালান ও অবসরের সময়ে একটি কসমেটিক্স এর দোকানে বসেন । তার পিতা একজন চা দোকানী।
এ পরীক্ষার সমন্বয়কারী অনিরুদ্র কুমার বাহাদুর বলেন, “নিঃছিদ্র নিরাপত্তা মাধ্যমে প্রবেশপত্র যাচাই করে পরিক্ষার হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। এই পরীক্ষা গুলোতে পরীক্ষকসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা পর্যবেক্ষণ করেন।” তবে,পরিচয় পত্র যাচাই ও নিরাপত্তার মধ্যেও কিভাবে এই শিক্ষার্থী নিয়মিত প্রক্সি পরীক্ষা দেন, সেটি নিয়ে সকলে সন্দিহান ।
তবে বিশেষ সুত্রে জানা যায়, এই ঘটনায় জড়িত রয়েছেন রুপসা কলেজ কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ পাওয়া যায়, কলেজের অধ্যক্ষের সাথে একটি লেনদেনের মাধ্যমে এই প্রক্সি পরিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া হয়। তবে , বিষয় টি সম্পূর্ণ বানোয়াট বলে মন্তব্য করেন কলেজের অধ্যক্ষ ফ ম আ সালাম।
তিনি বলেন, পরিক্ষার্থী ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় বহিষ্কার করা হয়েছে। এই বিষয়ে কলেজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমরা পুলিশকে অবগত করেছি।” তবে রুপসা থানায় গিয়ে জানা যায়, এ বিষয়ে কলেজের পক্ষ থেকে একটি সাধারন ডায়েরী করা হয়েছে। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ভাণ্ডারকোট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় নলিনেশন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। ফলে সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার হন তিনি। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে ভুয়া পরিক্ষার্থী নিয়োগ করে পরীক্ষা দেওয়ায় ফুঁসে উঠেছে ভান্ডারকোটসহ বটিয়াঘাটা উপজেলার জনগন। এ বিষয়ে জানতে চেয়ারম্যান ওবায়দুল্লাহ শেখ’র বাড়িতে গেলে তিনি পালিয়ে যান।
Reporter Name 


















