নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় একজন দলনেতার সুপারিশে ২০০২-০৩ সালে গণপূর্ত অফিসে চাকরির সুযোগ হয় হায়দার আলীর । তবে ২০০৮ সালের পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ভোল পাল্টে ফেলেন তিনি । শেখ পরিবার ও আওয়ামী লীগের নের্তৃবৃন্দের বদৌলতে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন গণপূর্তের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ডিপ্লোমা) মোঃ হায়দার আলী। তারপর থেকে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অদৃশ্য আলাদিনের চেরাগের বদৌলতে করেছেন ভাগ্যের পরিবর্তন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিলর, সকলের সাথেই ছিল দারুণ সখ্যতা। ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের সভাপতি খুরশিদ আলম টোনা- মনির ছোট ভাই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হোসেনের সাথে তোলা ছবি সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বেশ চর্চা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, শেখ পরিবার ও আওয়ামী নেতৃবৃন্দদের নজরে পড়তে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মাজারে কয়েকবার আনুষ্ঠানিকভাবে ফুল দিয়েছেন তিনি। শেখ মুজিবের মাজারে ফুল দেওয়া ছবিটিও বর্তমানে ফেসবুকে ভাইরাল।
তবে গত বছরের ৫ ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে, আবারো চেহারা পাল্টান এই প্রকৌশলী। বর্তমান সময়ের সর্বাধিক জনপ্রিয় ওই দলের নাম ব্যবহার করে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী নেতা হন। সম্প্রতি বাংলাদেশ পি ডব্লিউ ডি ডিপ্লোমা সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে খুলনাঞ্চলের সহ-সভাপতি পদে হায়দার আলী নির্বাচিত হন। তারপর থেকেই শুরু হয় এই সময়ের গল্প। বর্তমানে তিনি খুলনা আইনজীবী সমিতি সংলগ্ন গণপূর্ত ১ কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে খুলনা নুর নগরের গণপূর্ত ২ কার্যালয়ে ছিলেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী লীগের এই ১৭ বছরে খুলনা, বরগুনা, ভোলা সহ কয়েকটি জেলার গণপূর্ত কার্যালয়ে কর্মকালীন সময়ে ঠিকাদারদের সাথে সখ্যতা তৈরি হয়। ঠিকাদারদের নিকট থেকে মোটা অংকের অর্থ নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গনপুর্তের যান্ত্রিক শাখায় কর্মরত থাকার সুবাদে ঠিকাদারদের যান্ত্রিক বিষয়ে নানা সুবিধা দিয়েছেন তিনি। বিনিময়ে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি করছেন অনেকে।
দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা যায়, চাকরির এই প্রায় ২২ বছরের ক্যারিয়ারে বিভিন্ন খাত থেকে অর্জিত আয় বহির্ভূত অর্থ দিয়ে গড়েছেন অর্থ-সম্পদের পাহাড়। একজন সাধারণ উপ-সহকারী প্রকৌশলী(ডিপ্লোমা) হয়ে চড়েন আলিশান প্রাইভেট গাড়িতে। খুলনা সহ বিভিন্ন স্থানে নামে বেনামে কিনেছেন জমি। এছাড়া খুলনা খালিশপুর এর নেভি চেক পোস্ট সংলগ্ন এলাকায় করেছেন চোখ ধাঁধানো বিলাস বহুল বাড়ি। খুলনা খালিশপুর মহিলা পলিটেকনিক কলেজের সামনে রয়েছে আরেকটি বাড়ি। যখন যে দলের সরকার ক্ষমতায় থাকুক না কেন, নেতৃবৃন্দের সাথে লিয়াজু করে ভাইদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তৎকালীন নেতাদের সুপারিশের মাধ্যমে তার এক ভাইকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লিফট সার্ভিস অপারেটর হিসেবে চাকরী দেন। সর্বকনিষ্ঠ ভাই অহিদ কে দিয়ে গণপূর্তের বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজ করান। এছাড়া তিনি নিজে সরকারি চাকরি করায়, ছোট ভাইদের কে দিয়ে স্থানীয় রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করান। সর্বকনিষ্ঠ ভাই অহিদকে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য বানান। বড় ভাই হায়দার আলীর সাথে খুলনার বড় বড় রাজনৈতিক নেতাদের সু-সম্পর্ক থাকায় অহিদ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সরকারি জমি দখল, টেন্ডার বাজি, চাঁদাবাজি সহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে এই অহিদের বিরুদ্ধে।
তবে সকল বিষয় অস্বীকার করে হায়দার আলী জানান, আওয়ামী লীগের সময়ে বাধ্য হয়ে বঙ্গবন্ধুর মাজারে ফুল দিয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে সুসম্পর্ক ও সম্পত্তির বিষয়ে তার নিকট জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমার সাথে আওয়ামী লীগের কোন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সম্পর্ক নেই। এছাড়া লোন নিয়ে আমি একটি বাড়ি করেছি। অপর বাড়িটি আমার বাবার করা। আমি মেকানিক্যাল সাইডে কাজ করি, চাইলেই দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করতে পারিনা।
এ সকল বিষয়ে খুলনা গণপূর্ত-১ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান বলেন, আগের সরকারের আমলে হায়দার আলী আওয়ামী লীগের কিংবা বঙ্গবন্ধু পরিষদের কোন পদে ছিলেন কিনা , সে বিষয়ে জানা নেই। তবে, সম্প্রতি আয় ব্যয়ের হিসাব সহ সকল সম্পত্তির তথ্য বিবরণী সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তিনি যদি আয় বহির্ভূত সম্পত্তির মালিক হন, সেক্ষেত্রে দায়ভার সম্পূর্ণ নিজের। অফিস কোনভাবে এর দায় নিবে না।
তবে এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর খুলনা অফিস সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ ও নির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
(চোখ রাখুন ২য় পর্বে)
Reporter Name 






















