পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে সারাদেশের মতো খুলনাতেও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগিতে অংশ নেবেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকার ও দোয়া-মোনাজাতের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন কবরস্থানে কবর জিয়ারত করবেন অনেকে।
শবে বরাত উপলক্ষে খুলনার বিভিন্ন মসজিদে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নফল ইবাদত-বন্দেগির আয়োজন করা হয়েছে। মুসল্লিরা নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, ইস্তেগফার ও দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেবেন।
একই সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন কবরস্থানে কবর জিয়ারতের প্রস্তুতিও লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে খালিশপুর এলাকার গোয়ালখালী কবরস্থানে মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ কবরস্থানে বহু মানুষের মা-বাবা, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজন শায়িত রয়েছেন। স্থানীয়দের কাছে গোয়ালখালী কবরস্থান খুলনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কবরস্থান হিসেবে পরিচিত, যা দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় উপলক্ষে কবর জিয়ারতের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
শবে বরাতের রাতে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কবরস্থানের আশপাশে সহায়তা প্রত্যাশী মানুষদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। এ সময় দান-সদকা করতে আগ্রহী মুসল্লিদের উপস্থিতি সাধারণত বৃদ্ধি পায়।
এদিকে শবে বরাত উপলক্ষে খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে ওয়াজ মাহফিল, জিকির-আসকার ও দোয়া-মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন আলোচনা সভা ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের উদ্যোগ নিয়েছে।
শবে বরাত উপলক্ষে বুধবার সরকারি ছুটি থাকায় মঙ্গলবার সংবাদপত্রের অফিস বন্ধ থাকবে। এ রাতের তাৎপর্য তুলে ধরে রেডিও ও টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকগুলো প্রকাশ করবে বিশেষ ক্রোড়পত্র।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, শাবান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী রাতকে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বলা হয়। উপমহাদেশের কিছু আলেম এ রাতকে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ সময় হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে কুরআনুল কারিমে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই বলে মত দিয়েছেন অনেক আলেম-উলামা। কিছু বর্ণিত হাদিসে এ রাতের ফজিলতের কথা উল্লেখ পাওয়া যায় বলে তারা জানিয়েছেন।
ইসলামী বিশেষজ্ঞদের মতে, এ রাতে নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ ইবাদত ফরজ বা বাধ্যতামূলক নয়। তবে নফল ইবাদতের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ হিসেবে অনেক মুসলমান এ রাতকে গুরুত্ব দিয়ে পালন করে থাকেন। এর অল্প সময় পরই মাহে রমজান শুরু হওয়ায় শবে বরাতকে অনেকেই রমজানের প্রস্তুতির স্মারক হিসেবে দেখেন।
স্টাফ রিপোর্টার 























