Dhaka ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘প্রেমের’ সম্পর্কের জেরেই লাবনী-মাহমুদের আত্মহত্যা !

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৭:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ জুলাই ২০২২
  • 175
ফার্স্ট নিউজ ডেস্কঃ দীর্ঘদিনের ‘প্রেমের’ সম্পর্কের জেরেই আত্মহত্যা করেছেন খুলনা মহানগর পুলিশের ডিবি’র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) খন্দকার লাবনী আক্তার ও তার সাবেক দেহরক্ষী মাগুরা পুলিশ লাইনসের কনস্টেবল মাহমুদুল হাসান। মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
গত বুধবার রাতে দুইজনের কললিস্টে কথপোকথনের একাধিক প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। লাবনীর মৃত্যুর পর তার ফোনে মাহমুদুল হাসানের একাধিক মিস কল পাওয়া গেছে। রাতে লাবনীর মৃত্যু খবর পাওয়ার পর গতকাল সকালে মাহমুদুল হাসান নিজের অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৫ দিন আগে এবং সপ্তাহখানেক আগেও দুই দফায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল লাবনী।
ওই সূত্র আরও জানায়, লাবনীর দেহরক্ষী থাকাকালীন সময়ে দু’জনের প্রেমের সম্পর্ক হয়। পরবর্তীতে মাহমুদুল হাসান মাগুরায় বদলি হয়ে আসার পর তাদের সম্পর্কের ভাটা পরে। এ নিয়ে হয়তো তাদের সঙ্গে মনমালিন্য থাকতে পারে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, কললিস্টে তাদের মধ্যে কথপোকথনের অনেক প্রমাণ মিলেছে।
ওই সূত্র আরও জানায়, লাবনীর স্বামী ক্যান্সারে আক্রান্ত। তিনি ভারতে চিকিৎসা নিতে গেছেন। এছাড়া তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিনের কলহ চলছিল। ওই কলহের হতাশা থেকে বাঁচতে নিজ দেহরক্ষীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। দীর্ঘক্ষণ মোবাইলে কথা বলতেন তারা। দু’জনের মধ্যে দূরত্ব হওয়ায় হতাশা থেকে আত্মহত্যা করতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করছেন তদন্তকারীরা।
নিহত এডিসি লাবনীর বাবা খন্দকার শফিকুল আজম বলেন, তার মেয়ের জামাতা বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারি পরিচালক (এডি) তারেক আবদুল্লাহর সঙ্গে পারিবারিক কলহ চলছিল। আর মাহমুদুল হাসানের বোন জানান, লাবনীর সঙ্গে ভাই-বোনের সম্পর্ক ছিল। তার ভাইকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন লাবনী, অন্য কিছু নয়।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রিটন সরকার সময়ের আলোকে বলেন, গত বুধবার দিবাগত রাত ১২টায় মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সারঙ্গদিয়া গ্রামে নানাবাড়ি থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় এডিসি লাবনীকে উদ্ধার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৬ টায় মাহমুদুল হাসানকে মাগুরা পুলিশ লাইনসের ব্যারাকের ছাদ থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দুজনকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, পুলিশ লাবনী ও মাহমুদুল হাসানের আত্মহত্যা বিষয়ে এখনো কোনো পরিষ্কার কারণ আমরা জানতে পারিনি। সন্ধ্যায় মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে দুই জনেরই লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রাতেই তাদের গ্রামের বাড়ি দাফন সম্পন্ন করা কথা। এ ঘটনায় পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে তারা নিশ্চিত হয়েছেন, দু’জনেই আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত করছে।
তিনি বলেন, বিসিএস ৩০ তম ব্যাচের কর্মকর্তা লাবনী আক্তার দুই দিন আগে ছুটিতে মাগুরায় আসেন। তার বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বরালিদহ গ্রামে। স্বামী তারেক আবদুল্লাহ বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (এডি) হিসেবে কর্মরত। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ভারতে চিকিৎসাধীন। তাদের দুটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।
লাবনীর বাবা খন্দকার শফিকুল আজম গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। স্বামী-স্ত্রীর এই দ্বন্দ্বের কারণেই সে আত্মহত্যা করতে পারে। তাদেও বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার ৬ নম্বর কাদিরপাড়া ইউনিয়নের বরালিদহ গ্রামে। লাবনী- তারেক দম্পতির দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। একজনের বয়স ৪, আরেক জনের ৮ বছর। ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসে গত বুধবার রাতে নানার বাড়িতে ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সকালে মাগুরা পুলিশ লাইনসের ব্যারাক থেকে মাহমুদুল হাসানের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সকাল পৌনে ৬টার দিকে তিনি ছাদে গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ বলছে, নিজ নামে ইস্যু করা অস্ত্র দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। সারা রাত তিনি ডিউটিতে ছিলেন। ডিউটি শেষে ভোরে ব্যারাকে ফিরে গিয়ে আত্মহত্যা করেন। একটি গুলি তার থুতনি দিয়ে ঢুকেছে। নিহত মাহমুদুল হাসান কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি ইউনিয়নের পিপুলবাড়িয়া গ্রামের এজাজুল হকের ছেলে। প্রায় তিন বছর আগে মাহমুদুল পুলিশে যোগদান করেন।
মাহমুদুল হাসানের বোন সুমাইরা খাতুন বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা লাবনীর সঙ্গে আমার ভাইয়ের খুবই ভালো সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে ভাইবোনের মতো সম্পর্ক ছিল। কখনো কোনো দিন কারো সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেননি। লাবণীর সঙ্গে আমার ভাইয়ের অন্য কোনো সম্পর্ক ছিল না। তিনি আরও বলেন, ঈদের ছুটিতে ঈদের আগের দিন বাড়িতে এসেছিল মাহমুদুল। ঈদের পরদিন সে মাগুরায় চলে যায়। তবে কেন আত্মহত্যা করেছে তা বুঝতে পারছি না। শান্ত প্রকৃতির মানুষ ছিল মাহমুদুল। তার মৃত্যু আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। মাহমুদুলের বাবা এজাজুল হকও পুলিশে কনস্টেবল পদে চাকরি করেন। তিনি চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

‘প্রেমের’ সম্পর্কের জেরেই লাবনী-মাহমুদের আত্মহত্যা !

Update Time : ০১:৩৭:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ জুলাই ২০২২
ফার্স্ট নিউজ ডেস্কঃ দীর্ঘদিনের ‘প্রেমের’ সম্পর্কের জেরেই আত্মহত্যা করেছেন খুলনা মহানগর পুলিশের ডিবি’র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) খন্দকার লাবনী আক্তার ও তার সাবেক দেহরক্ষী মাগুরা পুলিশ লাইনসের কনস্টেবল মাহমুদুল হাসান। মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
গত বুধবার রাতে দুইজনের কললিস্টে কথপোকথনের একাধিক প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। লাবনীর মৃত্যুর পর তার ফোনে মাহমুদুল হাসানের একাধিক মিস কল পাওয়া গেছে। রাতে লাবনীর মৃত্যু খবর পাওয়ার পর গতকাল সকালে মাহমুদুল হাসান নিজের অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৫ দিন আগে এবং সপ্তাহখানেক আগেও দুই দফায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল লাবনী।
ওই সূত্র আরও জানায়, লাবনীর দেহরক্ষী থাকাকালীন সময়ে দু’জনের প্রেমের সম্পর্ক হয়। পরবর্তীতে মাহমুদুল হাসান মাগুরায় বদলি হয়ে আসার পর তাদের সম্পর্কের ভাটা পরে। এ নিয়ে হয়তো তাদের সঙ্গে মনমালিন্য থাকতে পারে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, কললিস্টে তাদের মধ্যে কথপোকথনের অনেক প্রমাণ মিলেছে।
ওই সূত্র আরও জানায়, লাবনীর স্বামী ক্যান্সারে আক্রান্ত। তিনি ভারতে চিকিৎসা নিতে গেছেন। এছাড়া তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিনের কলহ চলছিল। ওই কলহের হতাশা থেকে বাঁচতে নিজ দেহরক্ষীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। দীর্ঘক্ষণ মোবাইলে কথা বলতেন তারা। দু’জনের মধ্যে দূরত্ব হওয়ায় হতাশা থেকে আত্মহত্যা করতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করছেন তদন্তকারীরা।
নিহত এডিসি লাবনীর বাবা খন্দকার শফিকুল আজম বলেন, তার মেয়ের জামাতা বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারি পরিচালক (এডি) তারেক আবদুল্লাহর সঙ্গে পারিবারিক কলহ চলছিল। আর মাহমুদুল হাসানের বোন জানান, লাবনীর সঙ্গে ভাই-বোনের সম্পর্ক ছিল। তার ভাইকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন লাবনী, অন্য কিছু নয়।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রিটন সরকার সময়ের আলোকে বলেন, গত বুধবার দিবাগত রাত ১২টায় মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সারঙ্গদিয়া গ্রামে নানাবাড়ি থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় এডিসি লাবনীকে উদ্ধার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৬ টায় মাহমুদুল হাসানকে মাগুরা পুলিশ লাইনসের ব্যারাকের ছাদ থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দুজনকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, পুলিশ লাবনী ও মাহমুদুল হাসানের আত্মহত্যা বিষয়ে এখনো কোনো পরিষ্কার কারণ আমরা জানতে পারিনি। সন্ধ্যায় মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে দুই জনেরই লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রাতেই তাদের গ্রামের বাড়ি দাফন সম্পন্ন করা কথা। এ ঘটনায় পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে তারা নিশ্চিত হয়েছেন, দু’জনেই আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত করছে।
তিনি বলেন, বিসিএস ৩০ তম ব্যাচের কর্মকর্তা লাবনী আক্তার দুই দিন আগে ছুটিতে মাগুরায় আসেন। তার বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বরালিদহ গ্রামে। স্বামী তারেক আবদুল্লাহ বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (এডি) হিসেবে কর্মরত। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ভারতে চিকিৎসাধীন। তাদের দুটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।
লাবনীর বাবা খন্দকার শফিকুল আজম গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। স্বামী-স্ত্রীর এই দ্বন্দ্বের কারণেই সে আত্মহত্যা করতে পারে। তাদেও বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার ৬ নম্বর কাদিরপাড়া ইউনিয়নের বরালিদহ গ্রামে। লাবনী- তারেক দম্পতির দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। একজনের বয়স ৪, আরেক জনের ৮ বছর। ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসে গত বুধবার রাতে নানার বাড়িতে ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সকালে মাগুরা পুলিশ লাইনসের ব্যারাক থেকে মাহমুদুল হাসানের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সকাল পৌনে ৬টার দিকে তিনি ছাদে গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ বলছে, নিজ নামে ইস্যু করা অস্ত্র দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। সারা রাত তিনি ডিউটিতে ছিলেন। ডিউটি শেষে ভোরে ব্যারাকে ফিরে গিয়ে আত্মহত্যা করেন। একটি গুলি তার থুতনি দিয়ে ঢুকেছে। নিহত মাহমুদুল হাসান কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি ইউনিয়নের পিপুলবাড়িয়া গ্রামের এজাজুল হকের ছেলে। প্রায় তিন বছর আগে মাহমুদুল পুলিশে যোগদান করেন।
মাহমুদুল হাসানের বোন সুমাইরা খাতুন বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা লাবনীর সঙ্গে আমার ভাইয়ের খুবই ভালো সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে ভাইবোনের মতো সম্পর্ক ছিল। কখনো কোনো দিন কারো সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেননি। লাবণীর সঙ্গে আমার ভাইয়ের অন্য কোনো সম্পর্ক ছিল না। তিনি আরও বলেন, ঈদের ছুটিতে ঈদের আগের দিন বাড়িতে এসেছিল মাহমুদুল। ঈদের পরদিন সে মাগুরায় চলে যায়। তবে কেন আত্মহত্যা করেছে তা বুঝতে পারছি না। শান্ত প্রকৃতির মানুষ ছিল মাহমুদুল। তার মৃত্যু আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। মাহমুদুলের বাবা এজাজুল হকও পুলিশে কনস্টেবল পদে চাকরি করেন। তিনি চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত।