Dhaka ১১:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় নবান্ন ঘিরে একদিনের মাছের মেলা



বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি বাজারে নবান্ন উৎসবকে ঘিরে এবারও বসেছিল প্রায় তিন শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী একদিনের মাছের মেলা। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই মেলার বয়স প্রায় ৩০০ বছরেরও বেশি। নবান্ন কেন্দ্র করে প্রতি বছর আয়োজিত এই মেলাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) ভোর থেকেই মেলাপ্রাঙ্গণে মানুষের ভিড় চোখে পড়ে। আগের রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বড় বড় মাছ নিয়ে ব্যবসায়ীরা উথলি বাজারে পৌঁছাতে শুরু করেন। মাছ বিক্রেতারা জানান, নদী, হাওর ও বিল থেকে ধরা বিশাল আকৃতির নানা প্রজাতির মাছ সাজিয়ে বেচাকেনা করতে তারা বছরের এই দিনটির অপেক্ষায় থাকেন।

ব্যবসায়ী বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার মাছের দাম একটু কম, তাই বিক্রি ভালো হয়েছে। ক্রেতার সংখ্যাও বেশ।

মেলায় রুই মাছ কেজিপ্রতি ৬০০-৭০০ টাকা, কাতল ৫০০-৬০০ টাকা, বোয়াল ৫৫০-৬৫০ টাকা এবং ব্রিগেট ৩০০-৪০০ টাকায় বিক্রি হয়। নবান্ন উপলক্ষে নতুন আলুও ছিল বেশ জনপ্রিয়, যার দাম ছিল কেজিপ্রতি ৩০০-৪০০ টাকা।

মাছ ছাড়াও মেলায় ছিল স্থানীয় মিষ্টি, খেলনা ও পিঠার দোকান ছাড়াও বাঁশ–বেতের সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্যের সমাহার। শিশু ও পরিবারের উপস্থিতিতে পুরো মেলাপ্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

মেলায় আসা স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, ‘এই মেলা আমাদের এলাকার ঐতিহ্য। আমাদের বাবারা, দাদুরা আসতেন; আমরা ছোটবেলা থেকে আসছি। এখন আমাদের সন্তানদেরও নিয়ে আসছি যাতে ওরাও এই ঐতিহ্য দেখে বড় হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, নবান্ন উপলক্ষে এলাকার মানুষজন আত্মীয়স্বজনকে বাড়িতে দাওয়াত করাও একটি পুরোনো রীতি। বাড়িতে মেয়ে-জামাইসহ সকলকে দাওয়াত করা হয়।

শিবগঞ্জের উথলি ছাড়াও মোকামতলা ও মহাস্থানের কিছু এলাকায় ক্ষুদ্র পরিসরেও একই ধরনের মাছের মেলা বসে, তবে জনপ্রিয়তা ও আকারের দিক থেকে উথলীর মেলাটিই সবচেয়ে বড়।

তবে কিছু ক্রেতা-বিক্রেতা অভিযোগ তুলেছেন, এবং হাটের খাজনায় মেলা কমিটি বেশি টাকা নিয়েছে।

এ বিষয়ে মেলা কমিটির ইজারাদার বুলবুল ইসলাম বলেন, ‘নবান্নকেন্দ্রিক এই আয়োজন করতে আমাদের যথেষ্ট খরচ হয়। সে কারণে যথোপযুক্ত হারে ফি নেওয়া হয়েছে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

বগুড়ায় নবান্ন ঘিরে একদিনের মাছের মেলা

Update Time : ০৪:৩১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫



বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি বাজারে নবান্ন উৎসবকে ঘিরে এবারও বসেছিল প্রায় তিন শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী একদিনের মাছের মেলা। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই মেলার বয়স প্রায় ৩০০ বছরেরও বেশি। নবান্ন কেন্দ্র করে প্রতি বছর আয়োজিত এই মেলাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) ভোর থেকেই মেলাপ্রাঙ্গণে মানুষের ভিড় চোখে পড়ে। আগের রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বড় বড় মাছ নিয়ে ব্যবসায়ীরা উথলি বাজারে পৌঁছাতে শুরু করেন। মাছ বিক্রেতারা জানান, নদী, হাওর ও বিল থেকে ধরা বিশাল আকৃতির নানা প্রজাতির মাছ সাজিয়ে বেচাকেনা করতে তারা বছরের এই দিনটির অপেক্ষায় থাকেন।

ব্যবসায়ী বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার মাছের দাম একটু কম, তাই বিক্রি ভালো হয়েছে। ক্রেতার সংখ্যাও বেশ।

মেলায় রুই মাছ কেজিপ্রতি ৬০০-৭০০ টাকা, কাতল ৫০০-৬০০ টাকা, বোয়াল ৫৫০-৬৫০ টাকা এবং ব্রিগেট ৩০০-৪০০ টাকায় বিক্রি হয়। নবান্ন উপলক্ষে নতুন আলুও ছিল বেশ জনপ্রিয়, যার দাম ছিল কেজিপ্রতি ৩০০-৪০০ টাকা।

মাছ ছাড়াও মেলায় ছিল স্থানীয় মিষ্টি, খেলনা ও পিঠার দোকান ছাড়াও বাঁশ–বেতের সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্যের সমাহার। শিশু ও পরিবারের উপস্থিতিতে পুরো মেলাপ্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

মেলায় আসা স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, ‘এই মেলা আমাদের এলাকার ঐতিহ্য। আমাদের বাবারা, দাদুরা আসতেন; আমরা ছোটবেলা থেকে আসছি। এখন আমাদের সন্তানদেরও নিয়ে আসছি যাতে ওরাও এই ঐতিহ্য দেখে বড় হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, নবান্ন উপলক্ষে এলাকার মানুষজন আত্মীয়স্বজনকে বাড়িতে দাওয়াত করাও একটি পুরোনো রীতি। বাড়িতে মেয়ে-জামাইসহ সকলকে দাওয়াত করা হয়।

শিবগঞ্জের উথলি ছাড়াও মোকামতলা ও মহাস্থানের কিছু এলাকায় ক্ষুদ্র পরিসরেও একই ধরনের মাছের মেলা বসে, তবে জনপ্রিয়তা ও আকারের দিক থেকে উথলীর মেলাটিই সবচেয়ে বড়।

তবে কিছু ক্রেতা-বিক্রেতা অভিযোগ তুলেছেন, এবং হাটের খাজনায় মেলা কমিটি বেশি টাকা নিয়েছে।

এ বিষয়ে মেলা কমিটির ইজারাদার বুলবুল ইসলাম বলেন, ‘নবান্নকেন্দ্রিক এই আয়োজন করতে আমাদের যথেষ্ট খরচ হয়। সে কারণে যথোপযুক্ত হারে ফি নেওয়া হয়েছে।’