বাধ্যতামূলক অবসরে ‘বিতর্কিত’ ৩২ ডিসি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • 38

‘রাতের ভোট’ হিসেবে ব্যাপক সমালোচিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোর সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা আরও ৩২ জন সাবেক জেলা প্রশাসককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। গতকাল সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী অবসর-সুবিধা পাবেন। সরকারি চাকরি আইনের ৪৫ ধারা অনুযায়ী, কারও চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ না দিয়েই সরকার তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে পারে। যুগ্ম সচিব পদের এসব কর্মকর্তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের বিষয়ে ধাপে ধাপে পর্যালোচনা চলছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আরও ৩২ জনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলো। এর আগে একই প্রক্রিয়ায় ২২ জন সাবেক ডিসিকেও অবসরে পাঠানো হয়েছিল। জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যেসব কর্মকর্তা ২৫ বছরের চাকরি পূর্ণ করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী কারণ উল্লেখ না করেই জনস্বার্থে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। সম্প্রতি প্রশাসন ও পুলিশে একই ধরনের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বাধ্যতামূলক অবসরে যাঁরা
বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এই কর্মকর্তারা বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তারা হলেন— পটুয়াখালীর মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, ভোলার মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, বরিশালের এস এম অজিয়র রহমান, ফেনীর ওয়াহেদুজ্জামান, খাগড়াছড়ির মো. শহীদুল ইসলাম, ঝিনাইদহের সরোজ কুমার নাথ, পাবনার মো. জসিম উদ্দিন, সুনামগঞ্জের মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, কক্সবাজারের মো. কামাল হোসেন, রাঙামাটির এ কে এম মামুনুর রশিদ, লক্ষ্মীপুরের অঞ্জন চন্দ্র পাল, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, ময়মনসিংহের মো. মিজানুর রহমান, চাপাইনবাবগঞ্জের এ জেড এম নুরুল হক, শরীয়তপুরের কাজী আবু তাহের, নাটোরের মো. শাহরিয়ার, বান্দরবানের মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, নেত্রকোনার মঈনউল ইসলাম, কুষ্টিয়ার মো. আসলাম হোসেন, কুমিল্লার আবুল ফজল মীর, চাঁদপুরের মো. মাজেদুর রহমান খান, মানিকগঞ্জের এস এম ফেরদৌস, চুয়াডাঙ্গার গোপাল চন্দ্র দাশ, নীলফামারীর নাজিয়া শিরিন, কুড়িগ্রামের মোছা. সুলতানা পারভীন, শেরপুরের আনারকলি মাহবুব, খুলনার মো. হেলাল হোসেন, নরসিংদীর সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, কিশোরগঞ্জের মো. সারওয়ার মোর্শেদ চৌধুরী, হবিগঞ্জের মাহমুদুল কবির মুরাদ, মাগুরার মো. আলী আকবর ও রাজশাহীর এস এম আব্দুল কাদের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

বাধ্যতামূলক অবসরে ‘বিতর্কিত’ ৩২ ডিসি

Update Time : ০২:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

‘রাতের ভোট’ হিসেবে ব্যাপক সমালোচিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোর সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা আরও ৩২ জন সাবেক জেলা প্রশাসককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। গতকাল সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী অবসর-সুবিধা পাবেন। সরকারি চাকরি আইনের ৪৫ ধারা অনুযায়ী, কারও চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ না দিয়েই সরকার তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে পারে। যুগ্ম সচিব পদের এসব কর্মকর্তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের বিষয়ে ধাপে ধাপে পর্যালোচনা চলছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আরও ৩২ জনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলো। এর আগে একই প্রক্রিয়ায় ২২ জন সাবেক ডিসিকেও অবসরে পাঠানো হয়েছিল। জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যেসব কর্মকর্তা ২৫ বছরের চাকরি পূর্ণ করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী কারণ উল্লেখ না করেই জনস্বার্থে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। সম্প্রতি প্রশাসন ও পুলিশে একই ধরনের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বাধ্যতামূলক অবসরে যাঁরা
বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এই কর্মকর্তারা বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তারা হলেন— পটুয়াখালীর মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, ভোলার মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, বরিশালের এস এম অজিয়র রহমান, ফেনীর ওয়াহেদুজ্জামান, খাগড়াছড়ির মো. শহীদুল ইসলাম, ঝিনাইদহের সরোজ কুমার নাথ, পাবনার মো. জসিম উদ্দিন, সুনামগঞ্জের মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, কক্সবাজারের মো. কামাল হোসেন, রাঙামাটির এ কে এম মামুনুর রশিদ, লক্ষ্মীপুরের অঞ্জন চন্দ্র পাল, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, ময়মনসিংহের মো. মিজানুর রহমান, চাপাইনবাবগঞ্জের এ জেড এম নুরুল হক, শরীয়তপুরের কাজী আবু তাহের, নাটোরের মো. শাহরিয়ার, বান্দরবানের মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, নেত্রকোনার মঈনউল ইসলাম, কুষ্টিয়ার মো. আসলাম হোসেন, কুমিল্লার আবুল ফজল মীর, চাঁদপুরের মো. মাজেদুর রহমান খান, মানিকগঞ্জের এস এম ফেরদৌস, চুয়াডাঙ্গার গোপাল চন্দ্র দাশ, নীলফামারীর নাজিয়া শিরিন, কুড়িগ্রামের মোছা. সুলতানা পারভীন, শেরপুরের আনারকলি মাহবুব, খুলনার মো. হেলাল হোসেন, নরসিংদীর সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, কিশোরগঞ্জের মো. সারওয়ার মোর্শেদ চৌধুরী, হবিগঞ্জের মাহমুদুল কবির মুরাদ, মাগুরার মো. আলী আকবর ও রাজশাহীর এস এম আব্দুল কাদের।