যৌথবাহিনীর অভিযানে লুট হওয়া ১২ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:০০:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫
  • 152

সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র সাদা পাথর থেকে লুট হওয়া পাথর উদ্ধারে রাতভর অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। অভিযানে ধলাই নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থান থেকে ১২ হাজার ঘনফুট লুটের পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা পাথর পুনরায় ধলাই নদীতে ফেলা হয়েছে।
বুধবার (১৩ আগস্ট) রাত ১২টার পর থেকে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।
কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুন্নাহার বলেন, পাথর লুটের ঘটনায় ৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। বুধবার রাতে যৌথবাহিনীর সহযোগিতায় অভিযান চালায় ওই কমিটি। এসময় লুট হওয়া ১২ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়। পরে ভোলাহাটের সাদা পাথর এলাকা ও ধলাই নদীর বিভিন্ন স্থানে উদ্ধারকৃত পাথর প্রতিস্থাপন করা হয়।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সার্কিট হাউজে এক জরুরি সমন্বয় সভায় পাথর উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়াও সভায় সাদা পাথর এলাকায় ২৪ ঘণ্টা যৌথবাহিনী দায়িত্ব পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রশাসনের জরুরি বৈঠক শেষে রাত ১২টার পর থেকে অভিযানে নামে জেলা প্রশাসন ও যৌথবাহিনী। সিলেট নগরী ও সাদা পাথর এলাকায় রাতভর অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জানা গেছে, অভিযানে ধলাই নদীর তীরে বিভিন্ন স্থানে সাদা পাথর থেকে লুট করা স্তূপীকৃত পাথর জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো সাদা পাথর এলাকায় নিয়ে ফের প্রতিস্থাপন করা হয়। এছাড়াও বুধবার রাত ১২টার পর থেকে সিলেট-ভোলাগঞ্জ সড়কের এয়ারপোর্ট এলাকায় সিলেট ক্লাবের সম্মুখে যৌথবাহিনী চেকপোস্ট বসিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করে। এসময় বেশ কয়েকটি ট্রাক আটকে পাথর জব্দ করা হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম জানান, সাদা পাথর থেকে চুরি হওয়া পাথর উদ্ধারে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। লুট করা পাথর উদ্ধারে যৌথবাহিনীর অভিযান চলমান থাকবে।
এর আগে নজিরবিহীন লুটপাটের পর সিলেটে পর্যটনকেন্দ্র সাদা পাথর রক্ষায় নড়ে ওঠে প্রশাসন। বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সার্কিট হাউজে জরুরি সমন্বয় সভা আহ্বান করা হয়। সভায় লুট হওয়া পাথর উদ্ধার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া ২৪ ঘণ্টা সাদা পাথর এলাকায় যৌথবাহিনী দায়িত্ব পালন করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই সাদা পাথর ভোলাগঞ্জ রেলওয়ে বাঙ্কার এলাকায় শুরু হয় লুটপাট। প্রকাশ্যে প্রশাসনের সামনেই লুটে নেওয়া হয় পাথর। এরপর প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর তৎপরতায় কিছুদিন বন্ধ ছিল লুটপাট। তবে গত মাসের শেষ দিকে লুটপাটও আরও বেড়ে যায়। মাত্র কয়েকদিনেই লুটপাট করে লন্ডভন্ড করে দেওয়া হয় সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্র।
এদিকে সাদা পাথর লুটপাটের ঘটনায় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিনের সব দলীয় পদ স্থগিত করা হয়। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ের বিএনপি ও যুবদলের আরও কয়েকজন নেতা লুটপাটে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এর বাইরে জেলা ও মহানগর বিএনপির একাধিক নেতার বিষয়েও গুঞ্জন রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

যৌথবাহিনীর অভিযানে লুট হওয়া ১২ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার

Update Time : ০১:০০:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫

সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র সাদা পাথর থেকে লুট হওয়া পাথর উদ্ধারে রাতভর অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। অভিযানে ধলাই নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থান থেকে ১২ হাজার ঘনফুট লুটের পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা পাথর পুনরায় ধলাই নদীতে ফেলা হয়েছে।
বুধবার (১৩ আগস্ট) রাত ১২টার পর থেকে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।
কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুন্নাহার বলেন, পাথর লুটের ঘটনায় ৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। বুধবার রাতে যৌথবাহিনীর সহযোগিতায় অভিযান চালায় ওই কমিটি। এসময় লুট হওয়া ১২ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়। পরে ভোলাহাটের সাদা পাথর এলাকা ও ধলাই নদীর বিভিন্ন স্থানে উদ্ধারকৃত পাথর প্রতিস্থাপন করা হয়।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সার্কিট হাউজে এক জরুরি সমন্বয় সভায় পাথর উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়াও সভায় সাদা পাথর এলাকায় ২৪ ঘণ্টা যৌথবাহিনী দায়িত্ব পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রশাসনের জরুরি বৈঠক শেষে রাত ১২টার পর থেকে অভিযানে নামে জেলা প্রশাসন ও যৌথবাহিনী। সিলেট নগরী ও সাদা পাথর এলাকায় রাতভর অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জানা গেছে, অভিযানে ধলাই নদীর তীরে বিভিন্ন স্থানে সাদা পাথর থেকে লুট করা স্তূপীকৃত পাথর জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো সাদা পাথর এলাকায় নিয়ে ফের প্রতিস্থাপন করা হয়। এছাড়াও বুধবার রাত ১২টার পর থেকে সিলেট-ভোলাগঞ্জ সড়কের এয়ারপোর্ট এলাকায় সিলেট ক্লাবের সম্মুখে যৌথবাহিনী চেকপোস্ট বসিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করে। এসময় বেশ কয়েকটি ট্রাক আটকে পাথর জব্দ করা হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম জানান, সাদা পাথর থেকে চুরি হওয়া পাথর উদ্ধারে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। লুট করা পাথর উদ্ধারে যৌথবাহিনীর অভিযান চলমান থাকবে।
এর আগে নজিরবিহীন লুটপাটের পর সিলেটে পর্যটনকেন্দ্র সাদা পাথর রক্ষায় নড়ে ওঠে প্রশাসন। বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সার্কিট হাউজে জরুরি সমন্বয় সভা আহ্বান করা হয়। সভায় লুট হওয়া পাথর উদ্ধার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া ২৪ ঘণ্টা সাদা পাথর এলাকায় যৌথবাহিনী দায়িত্ব পালন করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই সাদা পাথর ভোলাগঞ্জ রেলওয়ে বাঙ্কার এলাকায় শুরু হয় লুটপাট। প্রকাশ্যে প্রশাসনের সামনেই লুটে নেওয়া হয় পাথর। এরপর প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর তৎপরতায় কিছুদিন বন্ধ ছিল লুটপাট। তবে গত মাসের শেষ দিকে লুটপাটও আরও বেড়ে যায়। মাত্র কয়েকদিনেই লুটপাট করে লন্ডভন্ড করে দেওয়া হয় সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্র।
এদিকে সাদা পাথর লুটপাটের ঘটনায় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিনের সব দলীয় পদ স্থগিত করা হয়। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ের বিএনপি ও যুবদলের আরও কয়েকজন নেতা লুটপাটে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এর বাইরে জেলা ও মহানগর বিএনপির একাধিক নেতার বিষয়েও গুঞ্জন রয়েছে।