রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরের কুদুকছড়ি আবাসিক এলাকায় সশস্ত্র হামলায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসীত) সংগঠনের গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ধর্মশিং চাকমা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তার দুই বোন। তারা হলেন, ভাগ্য শোভা চাকমা ও কৃপা সোনা চাকমা।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, জেএসএস (সন্তু) সংশ্লিষ্ট একটি সশস্ত্র গ্রুপ এ হামলা চালায়। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব। তিনি বলেছেন, বিস্তারিত জানার জন্য কাজ চলছে। মরদেহ উদ্ধারে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি যৌথ দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।
রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. এন্থনী চাকমা বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে ভাগ্য শোভা চাকমা ও কৃপা সোনা চাকমাকে হাসপাতালে আনা হয়। আহত দুই নারীর একজনের কনুই এবং অন্যজনের হাতের তালুতে গুলি লেগেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের রেফার্ড করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গভীর রাতে একটি সশস্ত্র গ্রুপ কুদুকছড়ি এলাকায় অবস্থান নেয় এবং ভোরে টার্গেট করে ধর্মশিং চাকমাকে গুলি করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন তার দুই বোন, যাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ধর্মশিং চাকমা দীর্ঘদিন ধরে ইউপিডিএফ-ঘনিষ্ঠ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন বলে জানা গেছে। এদিকে, নিরীহ দুই নারী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, আঞ্চলিক সশস্ত্র সংঘাতের কারণে সাধারণ মানুষই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব সংঘাত বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ডেস্ক নিউজ 






















