দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির শীর্ষ নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে যখন সারাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে, ঠিক সেই সময় খুলনার খালিশপুরে এক প্রধান শিক্ষকের বিতর্কিত মন্তব্য ও আচরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, খালিশপুর বঙ্গবাসী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের নেতা দেলোয়ার হোসেন শিক্ষকদের স্কুলে ডেকে এনে বলেন।
“খালেদা জিয়া কি রাষ্ট্রপতি? তার মৃত্যুতে আমার স্কুল কেন বন্ধ থাকবে?” এমন মন্তব্যের পর তিনি সেখানে উপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন বলেও ভিডিওতে দেখা যায়। ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে নানা মহলে ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। রাষ্ট্রীয় শোকের প্রেক্ষাপটে প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ: উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) থেকে সারাদেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ২ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। রাষ্ট্রীয় শোক উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শোকের প্রথম দিনেই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, রাষ্ট্রীয় শোক কোনো দলীয় বিষয় নয় এটি রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত এবং তা মানা সব নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।
সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ: ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষ এ ঘটনার নিন্দা জানান। অনেকে একে রাষ্ট্রীয় শোকের অবমাননা, আবার কেউ কেউ শিক্ষকের নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক বিদ্বেষ বা বিদ্রূপের জায়গা বানানো অনভিপ্রেত বলেও মন্তব্য করছেন অনেকে। একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষকরা আমাদের সন্তানদের মূল্যবোধ শেখাবেন। সেখানে শোকের দিনে এমন আচরণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কী বার্তা দেয়?”মন্তব্য করতে রাজি নন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক: এ বিষয়ে খালিশপুর বঙ্গবাসী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সচেতন মহলের প্রতিক্রিয়া: শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহলের মতে, রাষ্ট্রীয় শোক রাজনৈতিক মতভেদ বা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের ঊর্ধ্বে। বিশেষ করে একজন প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত ছিল। তারা বলছেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড না ঘটে। রাষ্ট্রীয় শোকের আবহে এমন ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি রাজনৈতিক বিতর্কের মঞ্চ হতে পারে? নাকি এখানেই সবচেয়ে বেশি সংযম ও দায়িত্বশীলতার উদাহরণ স্থাপন করা প্রয়োজন?
স্টাফ রিপোর্টার 























