শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করে ইতিহাসের পাতায় মুশফিক

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:০২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
  • 212

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মুশফিকুর রহিম তার শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শুরুতে মাত্র তৃতীয় ওভারেই ১৯৫তম বল খেলেই তিন অঙ্কে পৌঁছে যান তিনি। এর মধ্য দিয়ে তিনি শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করা বিশ্বের ১১তম এবং বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে জায়গা করে নেন ক্রিকেটের বিশেষ এক এলিট তালিকায়।

আগের দিন ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন মুশফিক। পুরো ইনিংসজুড়ে দেখিয়েছেন দায়িত্বশীলতা, ধৈর্য আর নিখুঁত শট নির্বাচন। সাদমান, জয় ও শান্ত ৯৫ রানে আউট হয়ে ফেরার পর ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে একাই দাঁড়িয়ে থেকে ইনিংস উদ্ধার করেন মুশফিক। আগের টেস্টে সিলেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে রান না পেলেও এই ম্যাচে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি।

শততম টেস্টে সেঞ্চুরি ক্রিকেট ইতিহাসে বিরল ঘটনা। মুশফিক যোগ দিলেন কলিন ক্রাউড্রে, গর্ডন গ্রিনিজ, জাভেদ মিয়াদাঁদ, রিকি পন্টিং, জো রুট, গ্রায়েম স্মিথ, হাশিম আমলার মতো কিংবদন্তিদের পাশে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সফলতম ব্যাটার হিসেবে এই অর্জন তাকে স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখল দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে।

মাইলফলকের ম্যাচগুলোতে আগে কখনো বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও শততম টেস্টের এই সেঞ্চুরিতে বদলে গেল সেই চিত্র। তার প্রথম টেস্ট, ৫০তম এবং ৭৫তম টেস্টে বড় কোনো স্কোর ছিল না। কিন্তু এবার নিজের মাইলফলক ম্যাচে তিনি শুধু সেঞ্চুরি নয়—অসাধারণ দৃঢ়তারও প্রমাণ দিলেন।

দ্বিতীয় দিনের সকালেই কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরি ছুঁয়ে মুশফিক প্রমাণ করলেন ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ নামটি তার সঙ্গে মানানসই কেন। বাংলাদেশের হয়ে প্রথমবার শততম টেস্টে সেঞ্চুরি তার অর্জনকে আরও মহিমান্বিত করেছে।

এ ইনিংস নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক অনন্য মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করে ইতিহাসের পাতায় মুশফিক

Update Time : ০১:০২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মুশফিকুর রহিম তার শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শুরুতে মাত্র তৃতীয় ওভারেই ১৯৫তম বল খেলেই তিন অঙ্কে পৌঁছে যান তিনি। এর মধ্য দিয়ে তিনি শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করা বিশ্বের ১১তম এবং বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে জায়গা করে নেন ক্রিকেটের বিশেষ এক এলিট তালিকায়।

আগের দিন ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন মুশফিক। পুরো ইনিংসজুড়ে দেখিয়েছেন দায়িত্বশীলতা, ধৈর্য আর নিখুঁত শট নির্বাচন। সাদমান, জয় ও শান্ত ৯৫ রানে আউট হয়ে ফেরার পর ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে একাই দাঁড়িয়ে থেকে ইনিংস উদ্ধার করেন মুশফিক। আগের টেস্টে সিলেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে রান না পেলেও এই ম্যাচে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি।

শততম টেস্টে সেঞ্চুরি ক্রিকেট ইতিহাসে বিরল ঘটনা। মুশফিক যোগ দিলেন কলিন ক্রাউড্রে, গর্ডন গ্রিনিজ, জাভেদ মিয়াদাঁদ, রিকি পন্টিং, জো রুট, গ্রায়েম স্মিথ, হাশিম আমলার মতো কিংবদন্তিদের পাশে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সফলতম ব্যাটার হিসেবে এই অর্জন তাকে স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখল দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে।

মাইলফলকের ম্যাচগুলোতে আগে কখনো বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও শততম টেস্টের এই সেঞ্চুরিতে বদলে গেল সেই চিত্র। তার প্রথম টেস্ট, ৫০তম এবং ৭৫তম টেস্টে বড় কোনো স্কোর ছিল না। কিন্তু এবার নিজের মাইলফলক ম্যাচে তিনি শুধু সেঞ্চুরি নয়—অসাধারণ দৃঢ়তারও প্রমাণ দিলেন।

দ্বিতীয় দিনের সকালেই কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরি ছুঁয়ে মুশফিক প্রমাণ করলেন ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ নামটি তার সঙ্গে মানানসই কেন। বাংলাদেশের হয়ে প্রথমবার শততম টেস্টে সেঞ্চুরি তার অর্জনকে আরও মহিমান্বিত করেছে।

এ ইনিংস নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক অনন্য মুহূর্ত হয়ে থাকবে।