খুলনা প্রতিনিধিঃ খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালি ইউনিয়নের কেওড়াতলী সরকারি খাস খাল সকলের জন্য উম্মুক্তের দাবি জানান স্থানীয় কৃষক ও জনগন। গত ৬ জুন সোমবার দাকোপের ভূমি কমিশনারের নিকট পাঠানো ১২৬ জন কৃষকের স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে এ দাবি জানানো হয়।
ইজারা না দিয়ে খালটি সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার জোর দাবি জানান স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউ পি সদস্য।স্থানীয় কৃষকেরা জানান পানির অভাবে জমিতে চাষ করতে পারছেন না ।
দক্ষিণাঞ্চলে রবি শস্য ও তরমুজ চাষের প্রাণকেন্দ্র বলে বিবেচিত খুলনার দাকোপ উপজেলাধীন পানখালী ইউনিয়ন। এ অঞ্চলের মানুষ অধিকাংশই কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। দেশের অন্যান্য স্থানে কম হলেও এই অঞ্চলের আবাদি জমিতে বছরে ৪ বার ফসল ফলে। মিষ্টি পানির ছোঁয়ায় ফসলগুলো যেন কৃষকের মুখে এক চিলতে হাসি ফোটায়। এছাড়া এ অঞ্চলের মাটির সুঘ্রান পেতে ছুটে এসেছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকারসহ অনেকে। তবে যে খাল থেকে মিষ্টি পানি সংগ্রহ করে এসকল ফসলে দেওয়া হয়, সেই খালটি বর্তমানে স্থানীয় প্রভাবশালী এক ব্যক্তির দখলে।
কৃষকেরা অভিযোগ করেন,পূর্বে খালটির ইজারা বাতিল হলেও স্থানীয় ক্ষমতাবলে খালটি দখল করে আছে রুস্তম শেখ। খালের দুপাশে কৃষকেরা রবি শস্য ও ধানসহ কৃষি পণ্য উৎপাদনের জন্য এই খালের পানি ব্যবহার করে। তবে, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বেড়িবাধ ও নেট পাটা দিয়ে মাছ চাষ করছে রুস্তম । যার কারণে বর্ষা-মৌসুমী পানি সরবরাহ অপসারণ না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকেরা। পানির অভাবে নির্মম কষাঘাতের এর শিকার হচ্ছেন বলে জানান স্থানীয়রা। এ বিষয়ে স্থানীয় এক নারী কৃষক বলেন, খালের পাশেই আমার বাড়ি এবং চাষের জমি। জমির প্রয়োজনে খাল থেকে পানি নেওয়ার সময় রুস্তম শেখের লোকেরা আমাকে বাধাগ্রস্ত করে। পরবর্তীতে জমিতে নলকূপের পানি দিয়ে কাজ চালাতে হয়। খালটি উন্মুক্তকরণের দাবি জানিয়ে গ্রাম্য চিকিৎসক মহিদুল ইসলাম বলেন, খালটির কোলঘেঁষে বেশির ভাগ মানুষের চাষযোগ্য জমি থাকলেও ফসলে পানি দিতে পারেনা। মিষ্টি পানির অভাবে জমিতে চাষ করা সম্ভব হয়না। খালটি উম্মুক্তের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জানালেও কোনো সুরহা হচ্ছেনা। এ বিষয়ে পানখালী ইউপি সদস্য এস এম শহিদুল ইসলাম জানান, রুস্তম শেখ নিজস্ব ক্ষমতা বলে বিভিন্ন খাল দখল করে । বিভিন্ন অদৃশ্য শক্তির সমন্বয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খালসহ বিভিন্ন স্থান দখল করে আছে। বিশেষত এই ইউনিয়নের কেওড়াতলী খাস খাল নিয়ে রয়েছে গোলকধাঁধা। তিনি এ খালটি ইজারা নিয়েছেন বলে দাবি করলেও কখনোই ইজারার কাগজাদি দেখাতে চান না। এছাড়া জানা যায়, মে মাসের ২৯ তারিখে অবৈধভাবে একটি খাল দখল করতে হাজির হয় রুস্তম শেখের দলবল। দখলে বাধা প্রদান করলে বটিয়াঘাটার দ্বীপবড়নপাড়ার পল্টুর মাছের ঘেরের প্রহরী মঞ্জু শেখ কে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ২৪ ঘন্টা পর পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে ঘেরের মালামালসহ উদ্ধার হন মঞ্জু শেখ। অপহৃত মঞ্জু শেখ এর তথ্য মতে, দীর্ঘদিন ধরে এই খালটি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালায় রুস্তম বাহিনী। সর্বশেষ ২৯ তারিখ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে খালটি দখল করতে যায় তারা। বাধা দেওয়ায় মুখ হাত বেধে একটি ঘরে আটকে রাখে রুস্তম’র লোকেরা। এছাড়া গ্রামবাসী জানান, রুস্তমের বিরুদ্ধে কথা বললে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ও মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এ সকল অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিত রুস্তমের নিকট যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে ফোনোকলে পাওয়া যায়নি। সর্বসাকুল্যে রবিশস্যের উৎপাদনের প্রাণকেন্দ্র খ্যাত এ অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের একটাই চাওয়া, সেটি হলো খাল উম্মুক্তকরন। তবেই, দূর হবে পানির সংকট এবং হাসি ফুটবে প্রান্তিক কৃষকের মুখে।
Reporter Name 
























