খুলনাঅফিসঃ
অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মঙ্গলবার ২৬ জুলাই খুলনা তেরখাদা উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মোঃ আশরাফুজ্জামান ও তার স্ত্রী রোকেয়া সুলতানার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রায় ২ কোটি টাকার বেশি অর্থ ও সম্পদের তথ্য গোপন রাখায় দুদকের সমন্বিত যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাঃ মোশাররফ হোসেন বাদি হয়ে দায়ের করেন মামলাটি । তবে ১০ দিন অতিক্রম হলেও অভিযুক্ত আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। পূর্বের ন্যায় প্রতিনিয়ত অফিস করছেন তিনি।অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকে মামলা হওয়ার তথ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচার হলেও কোনোধরনের হস্তক্ষেপ গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ।
দুদকের দেওয়া তথ্যমতে, অভিযুক্ত আশরাফুজ্জামান ও তার স্ত্রী রোকেয়া সুলতানা দুদকের নিকট ১ কোটি ১৬ লাখ ৯৩ হাজার ৭৫০ টাকার সম্পদ থাকার তথ্য গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করে। এছাড়া অভিযুক্তদ্বয় ১ কোটি ৯ লাখ ৬ হাজার ৬৯৩ টাকার মূল্যমানের জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ দখলে রাখে। মোট ২ কোটি ২৬ লাখ ৪৪৩ টাকার সম্পদের সঠিক তথ্য প্রদানে ব্যার্থ হন এই দম্পতি।
অভিযুক্ত আশরাফুজ্জামানের বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া থানার উথলি গ্রামে। বর্তমানে তিনি খুলনার খালিশপুরের মুজগুন্নী আবাসিকের একটি ফ্লাটে থাকেন। তিনি যশোর এলএসডি খাদ্য অফিসের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বর্তমানে খুলনা তেরখাদা উপজেলা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত আছেন। ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত যশোর খাদ্যগুদামে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকা কালিন সময়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে আশরাফুজ্জামান ও তার স্ত্রী রোকেয়া সুলতানার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের ভিত্তিতে সম্পদ বিবরণীর নোটিশ জারি করে দুদক ।সঠিক তথ্য প্রদানে ব্যার্থ হওয়ায় অনুসন্ধানে নামে দুদক। এরপর একে একে বের হতে থাকে থলের বেড়াল । বেরিয়ে আসে নামে ও বেনামে বিভিন্ন সম্পদের হিসাব। পিতার নামে জমি ও স্ত্রীর নামে কেনা ফ্লাটের তথ্য পাওয়া যায়। দুদকের তথ্য মোতাবেক ১ কোটি ১৬ লাখ ৯৩ হাজার ৭৫০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া যায়। অপরদিকে বাৎসরিক আয় ব্যায়ের হিসাব মিলিয়ে অবৈধভাবে ১ কোটি ৯ লাখ ৬ হাজার ৬৯৩ টাকা মূল্যের জ্ঞাত সম্পদ দখলে রাখার প্রমাণ পাওয়া যায় এই দম্পতির বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি অর্থ-সম্পদের তথ্য দুদকের নিকট গোপন করে এই দম্পতি। সকল অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় দুদক একটি মামলা দায়ের করে এ দম্পতির বিরুদ্ধে । মামলাটি নড়াইলের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় রুজু করা হয়।
দুদকের দায়ের করা মামলার প্রায় দশ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো বিভাগীয় পদক্ষেপ গৃহীত না হওয়া প্রসঙ্গে দুদকের একজন কর্মকর্তার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন “অভিযুক্ত আশরাফুজ্জামান চাকরির শুরু থেকেই ঘুষ বাণিজ্যসহ অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জন করে আসছে। তার বিরুদ্ধে মামলার কপি আদালতে পাঠানো হয়েছে ।অফিসিয়ালি ব্যাবস্থা গ্রহনের দায়ভার কর্তৃপক্ষের।
এ বিষয়ে খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ বাবুল হোসেন’র জানতে চাইলে কৌশলে এড়িয়ে যান তিনি । তিনি বলেন, “আসলে ঘটনাটি বেশ আগের এবং এটি যশোরের ঘটনা । তাছাড়া বিভাগীয় ব্যাবস্থা গ্রহণের বিষয়টি খুলনা বিভাগীয় খাদ্য অফিস বলতে পারবে।যেহেতু, তিনি পূর্বে যশোরের জেলা খাদ্য অফিসে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে দুদকের মামলাটি হয়েছে। সেক্ষেত্রে এ বিষয়ে তারা তথ্য দিতে পারবে।“
Reporter Name 
























