Dhaka ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীসহ নিক্সন-আবেদ আলী-খাইরুলের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:৫৯:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 103

ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন চৌধুরী ও তার স্ত্রী তারিন হোসেন, প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচিত পিএসসি’র সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়ীচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবন এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সাবেক নির্বাহী সদস্য মো. খাইরুল ইসলামের দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুদকের পৃথক তিনটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন (গালিব) এর আদালত এসব আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শিহাব সালাম স্ত্রীসহ নিক্সন চৌধুরীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। তাদের আবেদনে বলা হয়- নিক্সন চৌধুরী এবং তারিন হোসেন গোপনে দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। তদন্তকাজ চলমান থাকা অবস্থায় তারা দেশত্যাগ করলে সার্বিক তদন্তকাজ ব্যাহত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে মর্মে প্রতীয়মাণ হয়। এমতাবস্থায় তদন্তকাজ চলমান থাকা অবস্থায় দেশত্যাগ করতে না পারেন সেজন্য তাদের বিদেশ গমন রহিত করা প্রয়োজন।

গত ২৩ অক্টোবর একই আদালত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছিলেন। নিক্সন চৌধুরী ও তার স্ত্রী তারিন হোসেনের ব্যাংক হিসাবে তিন হাজার ১৬২ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন এবং প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ৯ জানুয়ারি পৃথক দুইটি মামলা করে দুদক।

এদিকে, প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচিত সেই আবেদ আলীর দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আল আমিন। আবেদনে বলা হয়, আবেদ আলীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা তৎসহ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও (৩) ধারায় মামলা করা হয়েছে। এমতাবস্থায় আসামির বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার তদন্তকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করা একান্ত প্রয়োজন। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় গত বছরের ৮ জুলাই আবেদ আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

অন্যদিকে, দুদকের সহকারী পরিচালক (মানিলন্ডারিং) এস এম মামুনুর রশীদ খাইরুলের বিদেশ যাত্রার নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আসামি খাইরুলের বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতি, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ভুয়া সম্পত্তি জামানত হিসেবে মর্টগেজ দিয়ে বেসিক ব্যাংক লি., কাওরান বাজার শাখ্য হতে দশ কোটি টাকা ক্ষণ গ্রহণপূর্বক আত্মসাতের অভিযোগটি অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় যে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশ ছেড়ে বিদেশে পলায়ন করতে পারেন। তাই, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বিদেশ গমন রহিত করা আবশ্যক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

স্ত্রীসহ নিক্সন-আবেদ আলী-খাইরুলের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

Update Time : ০৩:৫৯:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন চৌধুরী ও তার স্ত্রী তারিন হোসেন, প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচিত পিএসসি’র সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়ীচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবন এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সাবেক নির্বাহী সদস্য মো. খাইরুল ইসলামের দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুদকের পৃথক তিনটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন (গালিব) এর আদালত এসব আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শিহাব সালাম স্ত্রীসহ নিক্সন চৌধুরীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। তাদের আবেদনে বলা হয়- নিক্সন চৌধুরী এবং তারিন হোসেন গোপনে দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। তদন্তকাজ চলমান থাকা অবস্থায় তারা দেশত্যাগ করলে সার্বিক তদন্তকাজ ব্যাহত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে মর্মে প্রতীয়মাণ হয়। এমতাবস্থায় তদন্তকাজ চলমান থাকা অবস্থায় দেশত্যাগ করতে না পারেন সেজন্য তাদের বিদেশ গমন রহিত করা প্রয়োজন।

গত ২৩ অক্টোবর একই আদালত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছিলেন। নিক্সন চৌধুরী ও তার স্ত্রী তারিন হোসেনের ব্যাংক হিসাবে তিন হাজার ১৬২ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন এবং প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ৯ জানুয়ারি পৃথক দুইটি মামলা করে দুদক।

এদিকে, প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচিত সেই আবেদ আলীর দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আল আমিন। আবেদনে বলা হয়, আবেদ আলীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা তৎসহ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও (৩) ধারায় মামলা করা হয়েছে। এমতাবস্থায় আসামির বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার তদন্তকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করা একান্ত প্রয়োজন। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় গত বছরের ৮ জুলাই আবেদ আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

অন্যদিকে, দুদকের সহকারী পরিচালক (মানিলন্ডারিং) এস এম মামুনুর রশীদ খাইরুলের বিদেশ যাত্রার নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আসামি খাইরুলের বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতি, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ভুয়া সম্পত্তি জামানত হিসেবে মর্টগেজ দিয়ে বেসিক ব্যাংক লি., কাওরান বাজার শাখ্য হতে দশ কোটি টাকা ক্ষণ গ্রহণপূর্বক আত্মসাতের অভিযোগটি অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় যে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশ ছেড়ে বিদেশে পলায়ন করতে পারেন। তাই, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বিদেশ গমন রহিত করা আবশ্যক।