ধুনটে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম, ৮৫ শতাংশ ভোক্তা চাল খান না


বগুড়ার ধুনট উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল নিয়ে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার নিমগাছি, চিকাসি সহ প্রায় সব ইউনিয়নেই এই অনিয়ম চলছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে—ডিলার ও বেপারীরা দরিদ্র কার্ডধারীদের কাছ থেকে কম দামে চাল কিনে কালোবাজারে বিক্রি করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির প্রায় ৮৫ শতাংশ কার্ডধারী ভোক্তা জানান, নিম্নমানের মোটা ও লাল চাল হওয়ায় তারা এই চাল খেতে পারেন না বা খেতে আগ্রহ দেখান না। ফলে তারা কম দামে চাল বিক্রি করে দেন, যা কিনে অসাধু ব্যবসায়ীরা কালোবাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে বিপুল মুনাফা অর্জন করছেন।

সম্প্রতি স্থানীয় সাংবাদিকরা কালোবাজারে পাচারের সময় এক থ্রি-হুইলার (অটোভ্যান) ভর্তি চালসহ এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরেন। কিন্তু ঘটনাটির পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহল থেকে চাপ আসে বলে সাংবাদিকরা অভিযোগ করেছেন। তাদের হুমকি দেওয়া হয় যে, “সাংবাদিক, পুলিশ, খাদ্য বিভাগ—সবই আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে, তোমরা কিছুই করতে পারবে না।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বলছেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির এই অনিয়মের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনের নীরবতা কাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকলেও রহস্যজনকভাবে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভোক্তারা কার্ড বাতিলের ভয়ে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন, যার ফলে সাংবাদিকরাও গভীরে অনুসন্ধান করতে পারছেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধুনট উপজেলা এরিয়া খাদ্য পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা নিয়মিত তদারকি করছি। অনিয়মের প্রমাণ পেলে ডিলারদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, “ডিলার ও বেপারীরা সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে চাল কিনে কালোবাজারে বিক্রি করছে—এমন অভিযোগ আমরা পেয়েছি। খুব দ্রুতই এই অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীরা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধা সঠিকভাবে পান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

ধুনটে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম, ৮৫ শতাংশ ভোক্তা চাল খান না

Update Time : ০৩:২৯:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫


বগুড়ার ধুনট উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল নিয়ে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার নিমগাছি, চিকাসি সহ প্রায় সব ইউনিয়নেই এই অনিয়ম চলছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে—ডিলার ও বেপারীরা দরিদ্র কার্ডধারীদের কাছ থেকে কম দামে চাল কিনে কালোবাজারে বিক্রি করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির প্রায় ৮৫ শতাংশ কার্ডধারী ভোক্তা জানান, নিম্নমানের মোটা ও লাল চাল হওয়ায় তারা এই চাল খেতে পারেন না বা খেতে আগ্রহ দেখান না। ফলে তারা কম দামে চাল বিক্রি করে দেন, যা কিনে অসাধু ব্যবসায়ীরা কালোবাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে বিপুল মুনাফা অর্জন করছেন।

সম্প্রতি স্থানীয় সাংবাদিকরা কালোবাজারে পাচারের সময় এক থ্রি-হুইলার (অটোভ্যান) ভর্তি চালসহ এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরেন। কিন্তু ঘটনাটির পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহল থেকে চাপ আসে বলে সাংবাদিকরা অভিযোগ করেছেন। তাদের হুমকি দেওয়া হয় যে, “সাংবাদিক, পুলিশ, খাদ্য বিভাগ—সবই আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে, তোমরা কিছুই করতে পারবে না।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বলছেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির এই অনিয়মের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনের নীরবতা কাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকলেও রহস্যজনকভাবে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভোক্তারা কার্ড বাতিলের ভয়ে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন, যার ফলে সাংবাদিকরাও গভীরে অনুসন্ধান করতে পারছেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধুনট উপজেলা এরিয়া খাদ্য পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা নিয়মিত তদারকি করছি। অনিয়মের প্রমাণ পেলে ডিলারদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, “ডিলার ও বেপারীরা সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে চাল কিনে কালোবাজারে বিক্রি করছে—এমন অভিযোগ আমরা পেয়েছি। খুব দ্রুতই এই অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীরা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধা সঠিকভাবে পান।