আটা-তেল-চিনির দাম ঊর্ধ্বমুখী, চড়া সবজি-ডিমের বাজারও

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:৫১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • 20

রাজধানীর বাজারে আটা, ময়দা, চিনি ও খোলা ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে সবজি, ডিম, মাছ-মাংসের বাজারেও স্বস্তি নেই। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে বর্তমানে প্যাকেটজাত আটা প্রতি কেজি ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৫ থেকে ২০ দিন আগেও এই আটা ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ এ সময়ে কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। ময়দার দামও বেড়েছে। খোলা ময়দা প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা কোম্পানিভেদে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

চিনির বাজারেও দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় প্রায় ১০ টাকা বেশি। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সামনে প্যাকেটজাত চিনির দামও বাড়তে পারে।

মালিবাগ বাজারের বিক্রেতা চিশতি জানান, কয়েক দিনের ব্যবধানে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম ডিলাররা ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। প্যাকেটজাত চিনির দামও বাড়তে পারে বলে ডিলাররা জানিয়েছেন।

এদিকে বাজারে বোতলজাত ভোজ্যতেলের সরবরাহ কমে গেছে। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবে কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে অনেক দোকানে চাহিদা অনুযায়ী বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি লিটার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা এবং খোলা পাম তেল ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির দাম সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমলেও বাজার এখনো স্বস্তিদায়ক নয়। বর্তমানে বেশিরভাগ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটোল, পেঁপে ও ঢ্যাঁড়সের দাম তুলনামূলক কম।

কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমেছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে এর দাম ১০০ থেকে ১১০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির সুযোগ দেওয়ার পর সরবরাহ বেড়েছে। ফলে দামও কিছুটা কমেছে।

পেঁয়াজের দামেও বড় কোনো পরিবর্তন নেই। মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ভ্যানে পাঁচ কেজি আলু ১০০ টাকাতেও বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে।

ডিমের দামও দীর্ঘদিন ধরে উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকা এবং চারটি ডিম ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এর আগে ডজনপ্রতি ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছিল।

মাংসের বাজারেও স্বস্তি নেই। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম একসঙ্গে বাড়তে থাকায় বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য ঘোষণা

আটা-তেল-চিনির দাম ঊর্ধ্বমুখী, চড়া সবজি-ডিমের বাজারও

Update Time : ০৪:৫১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর বাজারে আটা, ময়দা, চিনি ও খোলা ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে সবজি, ডিম, মাছ-মাংসের বাজারেও স্বস্তি নেই। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে বর্তমানে প্যাকেটজাত আটা প্রতি কেজি ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৫ থেকে ২০ দিন আগেও এই আটা ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ এ সময়ে কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। ময়দার দামও বেড়েছে। খোলা ময়দা প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা কোম্পানিভেদে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

চিনির বাজারেও দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় প্রায় ১০ টাকা বেশি। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সামনে প্যাকেটজাত চিনির দামও বাড়তে পারে।

মালিবাগ বাজারের বিক্রেতা চিশতি জানান, কয়েক দিনের ব্যবধানে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম ডিলাররা ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। প্যাকেটজাত চিনির দামও বাড়তে পারে বলে ডিলাররা জানিয়েছেন।

এদিকে বাজারে বোতলজাত ভোজ্যতেলের সরবরাহ কমে গেছে। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবে কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে অনেক দোকানে চাহিদা অনুযায়ী বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি লিটার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা এবং খোলা পাম তেল ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির দাম সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমলেও বাজার এখনো স্বস্তিদায়ক নয়। বর্তমানে বেশিরভাগ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটোল, পেঁপে ও ঢ্যাঁড়সের দাম তুলনামূলক কম।

কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমেছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে এর দাম ১০০ থেকে ১১০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির সুযোগ দেওয়ার পর সরবরাহ বেড়েছে। ফলে দামও কিছুটা কমেছে।

পেঁয়াজের দামেও বড় কোনো পরিবর্তন নেই। মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ভ্যানে পাঁচ কেজি আলু ১০০ টাকাতেও বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে।

ডিমের দামও দীর্ঘদিন ধরে উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকা এবং চারটি ডিম ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এর আগে ডজনপ্রতি ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছিল।

মাংসের বাজারেও স্বস্তি নেই। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম একসঙ্গে বাড়তে থাকায় বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।