ডুমুরিয়ায় বিদ্যালয়ে শাস্তির নামে অপমান : ৮ শিক্ষার্থীর মাথা ন্যাড়া, তদন্তে প্রশাসন


খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শাস্তির নামে শিক্ষার্থীদের অপমান করার অভিযোগ ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রঘুনাথপুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আট শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের বাইরে একটি সেলুনে নিয়ে গিয়ে মাথা ন্যাড়া করানোর অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। ঘটনায় প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শাস্তির অংশ হিসেবে চুল কেটে ফেলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লুৎফুন্নেসা বেগম আট শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের বাইরে একটি সেলুনে নিয়ে গিয়ে মাথা ন্যাড়া করান। ওই শিক্ষার্থীরা হলো—সত্যজিৎ মণ্ডল, মনিন্তিকেশ মণ্ডল, পার্থ সরকার, অর্ঘ্য বালা, হীরামন গায়েন, কার্তিক, সাকিব ও আবিদ।

এ ছাড়া কয়েক দিন আগে একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী দীপ্তি সরকারকে শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। অভিভাবকদের দাবি, ওই ঘটনায় ছাত্রীটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং আতঙ্কে ভুগছে।

প্রশাসনের অবস্থান:

ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ইউএনও জানান, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রধান শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের চুল কাটার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রধান শিক্ষিকার বক্তব্য:

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লুৎফুন্নেসা বেগম শিক্ষার্থীদের মাথা ন্যাড়া করার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, বিষয়টি করা তার ঠিক হয়নি।

প্রতিক্রিয়া:

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল। তারা বলেন, শাস্তির নামে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে অপমান করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

ডুমুরিয়ায় বিদ্যালয়ে শাস্তির নামে অপমান : ৮ শিক্ষার্থীর মাথা ন্যাড়া, তদন্তে প্রশাসন

Update Time : ১২:৩৪:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শাস্তির নামে শিক্ষার্থীদের অপমান করার অভিযোগ ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রঘুনাথপুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আট শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের বাইরে একটি সেলুনে নিয়ে গিয়ে মাথা ন্যাড়া করানোর অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। ঘটনায় প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শাস্তির অংশ হিসেবে চুল কেটে ফেলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লুৎফুন্নেসা বেগম আট শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের বাইরে একটি সেলুনে নিয়ে গিয়ে মাথা ন্যাড়া করান। ওই শিক্ষার্থীরা হলো—সত্যজিৎ মণ্ডল, মনিন্তিকেশ মণ্ডল, পার্থ সরকার, অর্ঘ্য বালা, হীরামন গায়েন, কার্তিক, সাকিব ও আবিদ।

এ ছাড়া কয়েক দিন আগে একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী দীপ্তি সরকারকে শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। অভিভাবকদের দাবি, ওই ঘটনায় ছাত্রীটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং আতঙ্কে ভুগছে।

প্রশাসনের অবস্থান:

ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ইউএনও জানান, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রধান শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের চুল কাটার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রধান শিক্ষিকার বক্তব্য:

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লুৎফুন্নেসা বেগম শিক্ষার্থীদের মাথা ন্যাড়া করার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, বিষয়টি করা তার ঠিক হয়নি।

প্রতিক্রিয়া:

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল। তারা বলেন, শাস্তির নামে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে অপমান করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।