Dhaka ০৪:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতারণা মামলায় নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান আটক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:১৪:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জানুয়ারী ২০২২
  • 176

ফার্স্ট নিউজ ডেস্কঃ

প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলায় অবশেষে গ্রেফতার হয়েছেন রাজধানীর দক্ষিণখানের কাওলায় অবস্থিত নর্দান ইউনিভার্সিটির ট্রাষ্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু ইউসুফ আবদুল্লাহ। সোমবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে তাকে তার বনানী কামাল আতাতুর্ক সড়কের কার্যালয়ে থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে তাকে কল্যাণপুরে পিবিআই ঢাকা মেট্রো নর্থ (অরগেনাইস্ট ক্রাইম) কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পিবিআই সূত্র জানায়।

জানা গেছে, দেশের শীর্ষস্থানীয় আবাসন কোম্পানি আশিয়ানের ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক বিঘা জমির মালিক বনে যান নর্দান ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান হয়েও তিনি জমির ভলিউম জালিয়াতির মতো জঘন্য অপরাধ করেছেন। এ সংক্রান্ত খিলক্ষেত থানার একটি প্রতারণা মামলায় গত ২০ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার একটি আদালত। তারপরও ক্ষমতার দাপট ও বিশেষ মহলের প্রশ্রয়ের কারণে এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন তিনি। এছাড়া ধানমন্ডি ও তেজগাঁসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।পিবিআইর সদর দফতরের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানান, উক্ত প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলার আসামি নর্দান ইউনিভার্সিটির ট্রাষ্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু ইউসুফ আবদুল্লাহকে তার বনানী কার্যালয় থেকে গ্রেফতার করে কল্যানপুর কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন পিবিআই ঢাকা মেট্রো অরগেনাইজড ক্রাইম এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এর আগে প্রতারণা ও জালিয়াতির ঘটনায় গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে প্রফেসর আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ ও সরকার লুত্ফুল কবীরকে আসামি করে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১৬৭/৫০৬/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ৩ আগস্ট আশিয়ানের মালিকানাধীন দক্ষিণখান থানার বাড্ডা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অধীনস্থ ঢাকা কালেক্টরির তৌজিভুক্ত দক্ষিণখান মৌজার অন্তর্গত ১৬৫ শতক বা ৫ বিঘা নাল জমি ক্রয়ের ইচ্ছা পোষণ করেন নর্দান ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ আবদুল্লাহ। উভয় পক্ষের আলোচনা জমির মূল্য পঞ্চাশ কোটি টাকা সাব্যস্ত করা হয়।

ওইদিনই আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ ৪ কোটি টাকা নগদ-চেকে আশিয়ানকে প্রদান করে চুক্তিবদ্ধ হন। পরবর্তীতে ইউসুফ আবদুল্লাহ চুক্তিপত্রে উল্লেখিত পঞ্চাশ কোটি টাকার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সর্বমোট ৩০ কোটি টাকা চেক ও নগদ অর্থ প্রদান করলেও ২০ কোটি টাকা পরিশোধ করেন নাই। চুক্তিপত্র মোতাবেক ২০১৩ সালে ৩০ আগস্টের মধ্যে বাকি ২০ কোটি টাকা পরিশোধ করার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ছিল।

আশিয়ানের বাকি টাকা পরিশোধ করার জন্য প্রফেসর আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহকে বারবার তাগাদা দিলেও তিনি ‘দিব-দিচ্ছি’ বলে সময় ক্ষেপণ করেন। এর মধ্যে তিনি বাড্ডার সাব রেজিস্ট্রার অফিসের যোগসাজশে আশিয়ানের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার অগোচরে তার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে চুক্তিকৃত এই ৫ বিঘা জমি ৯ কোটি তেত্রিশ লাখ টাকা মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে উল্লেখ করে বাড্ডা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ঢাকার অফিসে একটি রেজিস্ট্রিকৃত সাফ কবলা দলিল মূলে অবৈধভাবে প্রতারণা ও ছল চাতুরীর মাধ্যমে তার নিজ নামে সাফ কবলা দলিল সম্পাদন করেন এবং আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্টের ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে উল্লেখিত জমির মালিক সেজে বসেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

প্রতারণা মামলায় নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান আটক

Update Time : ০২:১৪:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জানুয়ারী ২০২২

ফার্স্ট নিউজ ডেস্কঃ

প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলায় অবশেষে গ্রেফতার হয়েছেন রাজধানীর দক্ষিণখানের কাওলায় অবস্থিত নর্দান ইউনিভার্সিটির ট্রাষ্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু ইউসুফ আবদুল্লাহ। সোমবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে তাকে তার বনানী কামাল আতাতুর্ক সড়কের কার্যালয়ে থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে তাকে কল্যাণপুরে পিবিআই ঢাকা মেট্রো নর্থ (অরগেনাইস্ট ক্রাইম) কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পিবিআই সূত্র জানায়।

জানা গেছে, দেশের শীর্ষস্থানীয় আবাসন কোম্পানি আশিয়ানের ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক বিঘা জমির মালিক বনে যান নর্দান ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান হয়েও তিনি জমির ভলিউম জালিয়াতির মতো জঘন্য অপরাধ করেছেন। এ সংক্রান্ত খিলক্ষেত থানার একটি প্রতারণা মামলায় গত ২০ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার একটি আদালত। তারপরও ক্ষমতার দাপট ও বিশেষ মহলের প্রশ্রয়ের কারণে এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন তিনি। এছাড়া ধানমন্ডি ও তেজগাঁসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।পিবিআইর সদর দফতরের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানান, উক্ত প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলার আসামি নর্দান ইউনিভার্সিটির ট্রাষ্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু ইউসুফ আবদুল্লাহকে তার বনানী কার্যালয় থেকে গ্রেফতার করে কল্যানপুর কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন পিবিআই ঢাকা মেট্রো অরগেনাইজড ক্রাইম এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এর আগে প্রতারণা ও জালিয়াতির ঘটনায় গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে প্রফেসর আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ ও সরকার লুত্ফুল কবীরকে আসামি করে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১৬৭/৫০৬/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ৩ আগস্ট আশিয়ানের মালিকানাধীন দক্ষিণখান থানার বাড্ডা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অধীনস্থ ঢাকা কালেক্টরির তৌজিভুক্ত দক্ষিণখান মৌজার অন্তর্গত ১৬৫ শতক বা ৫ বিঘা নাল জমি ক্রয়ের ইচ্ছা পোষণ করেন নর্দান ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ আবদুল্লাহ। উভয় পক্ষের আলোচনা জমির মূল্য পঞ্চাশ কোটি টাকা সাব্যস্ত করা হয়।

ওইদিনই আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ ৪ কোটি টাকা নগদ-চেকে আশিয়ানকে প্রদান করে চুক্তিবদ্ধ হন। পরবর্তীতে ইউসুফ আবদুল্লাহ চুক্তিপত্রে উল্লেখিত পঞ্চাশ কোটি টাকার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সর্বমোট ৩০ কোটি টাকা চেক ও নগদ অর্থ প্রদান করলেও ২০ কোটি টাকা পরিশোধ করেন নাই। চুক্তিপত্র মোতাবেক ২০১৩ সালে ৩০ আগস্টের মধ্যে বাকি ২০ কোটি টাকা পরিশোধ করার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ছিল।

আশিয়ানের বাকি টাকা পরিশোধ করার জন্য প্রফেসর আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহকে বারবার তাগাদা দিলেও তিনি ‘দিব-দিচ্ছি’ বলে সময় ক্ষেপণ করেন। এর মধ্যে তিনি বাড্ডার সাব রেজিস্ট্রার অফিসের যোগসাজশে আশিয়ানের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার অগোচরে তার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে চুক্তিকৃত এই ৫ বিঘা জমি ৯ কোটি তেত্রিশ লাখ টাকা মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে উল্লেখ করে বাড্ডা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ঢাকার অফিসে একটি রেজিস্ট্রিকৃত সাফ কবলা দলিল মূলে অবৈধভাবে প্রতারণা ও ছল চাতুরীর মাধ্যমে তার নিজ নামে সাফ কবলা দলিল সম্পাদন করেন এবং আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্টের ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে উল্লেখিত জমির মালিক সেজে বসেন।