নেপালে নতুন সরকারের শপথের পরদিনই সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্রেপ্তার

নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ শপথ নেওয়ার পরদিনই গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে।

শনিবার ভোরে রাজধানী কাঠমান্ডু-এর ভক্তপুর এলাকায় নিজ নিজ বাসভবন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশ।

পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী জানান, বিশেষ আদালতের সাবেক বিচারক গৌরী বাহাদুর কার্কির নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অলি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৭০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ১৯ জন আন্দোলনকারী ছিলেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন কে পি শর্মা অলি। এর আগে পদত্যাগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়।

সাম্প্রতিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন বালেন্দ্র শাহ। গ্রেপ্তারের পর দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরং বলেন, “এটি প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার অংশ। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

মানবতাবিরোধী অপরাধে গ্রেপ্তার মোজাফফর, ২ দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

নেপালে নতুন সরকারের শপথের পরদিনই সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্রেপ্তার

Update Time : ১২:৪১:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ শপথ নেওয়ার পরদিনই গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে।

শনিবার ভোরে রাজধানী কাঠমান্ডু-এর ভক্তপুর এলাকায় নিজ নিজ বাসভবন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশ।

পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী জানান, বিশেষ আদালতের সাবেক বিচারক গৌরী বাহাদুর কার্কির নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অলি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৭০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ১৯ জন আন্দোলনকারী ছিলেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন কে পি শর্মা অলি। এর আগে পদত্যাগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়।

সাম্প্রতিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন বালেন্দ্র শাহ। গ্রেপ্তারের পর দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরং বলেন, “এটি প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার অংশ। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”