Dhaka ০২:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোংলায় দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত যুবকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

মোংলায় প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে রক্তাক্ত জখম যুবক মহিদুল মারা গেছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে, ঘাতক বনি আমিন ও মাহমুদ হাওলাদারকে আটক দেখানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকালে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আনিসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সোমবার (১৩) অক্টোবর সকাল সোয়া ৭টার দিকে পৌর শহরের কবরস্থান রোড শ্রমিক সংঘ সংলগ্ন মেইন সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানায়, গত এক সপ্তাহ আগে মটরসাইকেল ওভারটেক নিয়ে দুইজনের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। তারই জের হিসেবে এঘটনার সুত্রপাত। সোমবার ভোরে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে মোংলা ইপিজেড গামেন্টসে যাচ্ছিলেন উপজেলার মিঠাখালী এলাকার মহিদুল শেখ (৩২)। সকাল সোয়া ৭টার দিকে পৌর শহরের কবরস্থান রোড শ্রমিক সংঘ এলাকায় পৌছালে পিছন থেকে এসে গাড়ীর গতিরোধ করে বনি আমিন ও মাহমুদ নামের দুই সন্ত্রাসী। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটি কাঠের লাঠি দিয়ে পিছন থেকে মাথায় পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে মহিদুলকে। এসময় সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্ত্রী ঠেকাতে গেলে তাকেও মেরে আহত করে। আহত মহিদুল মোংলা উপজেলার মিঠাখালীর সোনাখালী এলাকার হান্নান শেখের ছেলে। মহিদুলের সাথে সন্ত্রাসীদের মাহমুদ ও বনি আমিনের পূর্ব শত্র“তা চলছিল বলে জানায় এলাকাবাসী।

পরে স্থানীয়রা মহিদুলকে উদ্ধার করে প্রথমে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখাণে অবস্থা অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সেখানেও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানায় মহিদুলের স্বজনরা।

অপরদিকে, ওই দুই সন্ত্রাসীকে আটকের পর গণধোলাই দিয়ে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয় জনতা। পরে পুলিশ এসে তাদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় মহিদুলের বড় ভাই বুল বুল শেখ। আটক দুই সন্ত্রাসী হেমায়েত শেখের ছেলে বনি আমিন ও মজিবুর রহমান হাওলাদার ছেলে মাহমুদ হাওলাদার। তাদের বাড়ি সুন্দরবন ইউনিয়নের কচুবুনিয়া এলাকায় বলে জানা গেছে।

মোংলা থানার অফিসার ইনচজার্জ (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, কবরস্থান রোড এলাকায় এক যুবককে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে সআহত করলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় পাঠানো হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য সেখানেই রয়েছে, তবে সকাল ১১টার দিকে ময়না তদন্ত হবে। দুপুরের দিকে লাশ মোংলার মিঠাখালী নিজ বাড়িতে তাকে দাফন করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। মুল আসামী বনি আমিন ও মাহমুদ হাওলাদারকে আটক করা হয়েছে। দুপুরের দিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

মোংলায় দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত যুবকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

Update Time : ০২:২৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

মোংলায় প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে রক্তাক্ত জখম যুবক মহিদুল মারা গেছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে, ঘাতক বনি আমিন ও মাহমুদ হাওলাদারকে আটক দেখানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকালে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আনিসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সোমবার (১৩) অক্টোবর সকাল সোয়া ৭টার দিকে পৌর শহরের কবরস্থান রোড শ্রমিক সংঘ সংলগ্ন মেইন সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানায়, গত এক সপ্তাহ আগে মটরসাইকেল ওভারটেক নিয়ে দুইজনের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। তারই জের হিসেবে এঘটনার সুত্রপাত। সোমবার ভোরে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে মোংলা ইপিজেড গামেন্টসে যাচ্ছিলেন উপজেলার মিঠাখালী এলাকার মহিদুল শেখ (৩২)। সকাল সোয়া ৭টার দিকে পৌর শহরের কবরস্থান রোড শ্রমিক সংঘ এলাকায় পৌছালে পিছন থেকে এসে গাড়ীর গতিরোধ করে বনি আমিন ও মাহমুদ নামের দুই সন্ত্রাসী। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটি কাঠের লাঠি দিয়ে পিছন থেকে মাথায় পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে মহিদুলকে। এসময় সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্ত্রী ঠেকাতে গেলে তাকেও মেরে আহত করে। আহত মহিদুল মোংলা উপজেলার মিঠাখালীর সোনাখালী এলাকার হান্নান শেখের ছেলে। মহিদুলের সাথে সন্ত্রাসীদের মাহমুদ ও বনি আমিনের পূর্ব শত্র“তা চলছিল বলে জানায় এলাকাবাসী।

পরে স্থানীয়রা মহিদুলকে উদ্ধার করে প্রথমে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখাণে অবস্থা অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সেখানেও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানায় মহিদুলের স্বজনরা।

অপরদিকে, ওই দুই সন্ত্রাসীকে আটকের পর গণধোলাই দিয়ে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয় জনতা। পরে পুলিশ এসে তাদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় মহিদুলের বড় ভাই বুল বুল শেখ। আটক দুই সন্ত্রাসী হেমায়েত শেখের ছেলে বনি আমিন ও মজিবুর রহমান হাওলাদার ছেলে মাহমুদ হাওলাদার। তাদের বাড়ি সুন্দরবন ইউনিয়নের কচুবুনিয়া এলাকায় বলে জানা গেছে।

মোংলা থানার অফিসার ইনচজার্জ (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, কবরস্থান রোড এলাকায় এক যুবককে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে সআহত করলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় পাঠানো হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য সেখানেই রয়েছে, তবে সকাল ১১টার দিকে ময়না তদন্ত হবে। দুপুরের দিকে লাশ মোংলার মিঠাখালী নিজ বাড়িতে তাকে দাফন করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। মুল আসামী বনি আমিন ও মাহমুদ হাওলাদারকে আটক করা হয়েছে। দুপুরের দিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে।