এক বিশ্ব, এক পরিবার, এক ভবিষ্যতের বার্তা মোদির

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ নভেম্বর ২০২২
  • 152

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চলতি বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী গ্রুপ অব টোয়েন্টি বা জি-২০ গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করবে ভারত। আর এ উপলক্ষে ভারতের জি-২০ সভাপতিত্বের লোগো, থিম এবং ওয়েবসাইটের উন্মোচন করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে এই লোগো-থিম উন্মোচন করে এক বিশ্ব, এক পরিবার, এক ভবিষ্যতের বার্তা দেন তিনি। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।

লোগো-থিম উন্মোচনের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘আমাদের জি-২০ সভাপতিত্বের লোগো, থিম ও ওয়েবসাইট বিশ্বের কাছে ভারতের বার্তা এবং সর্বাধিক অগ্রাধিকারকে প্রতিফলিত করবে।’

সংবাদমাধ্যম বলছে, প্রায় ১ বছর এই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে থাকবে ভারত। এসময় ভারতজুড়ে ৩২টি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২০০টি সভার আয়োজন করা হবে। এরপর ২০২৩ সালের নভেম্বরে জি-২০’র বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলেন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। মূলত সেই সম্মেলনই ভারতের মাটিতে সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন হতে চলেছে।

মঙ্গলবার ভারতের প্রকাশ করা জি-২০ সভাপতিত্বের লোগোতে সাত পাপড়ির এক পদ্মফুলের ছবি রয়েছে। পদ্মফুল ভারতের জাতীয় ফুল। জি-২০ সভাপতিত্বের লোগোতে পদ্মের উপস্থিতি ভারতীয় সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা, সম্পদের প্রতিনিধিত্ব করে বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

লোগোটির উন্মোচনের সময় নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘পদ্মের সাতটি পাপড়ি পৃথিবীর সাতটি মহাদেশ এবং সঙ্গীতের সাতটি সুরের প্রতিনিধিত্বকারী। জি-২০ সম্মেলন গোটা বিশ্বকে একত্রিত করবে। এই লোগোতে, পদ্ম ফুল ভারতের পৌরাণিক ঐতিহ্য, আমাদের বিশ্বাস, আমাদের বুদ্ধিমত্তাকে চিত্রিত করছে।’

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের জি-২০ প্রেসিডেন্সি এমন একটা সময়ে আসছে যখন পৃথিবীজুড়ে নানা সংকট ও অশান্তি চলছে। করোনা মহামারি পরবর্তী সময়ে ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সময়ে আশার প্রতীক হলো পদ্ম। সেটিই থাকছে লোগোতে। যত সংকটজনক পরিস্থিতিই হোক না কেন পদ্ম ফুটবেই।

তিনি আরও দাবি করেন, ভারতীয় সংস্কৃতিতে জ্ঞানের দেবী, সমৃদ্ধির দেবী পদ্মের ওপরেই বসেন। এটাই গোটা বিশ্ব চায়। পৃথিবীও পদ্মের ওপর বসে রয়েছে। পদ্মের সাতটি পাপড়িও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গোটা বিশ্বের গানও সাত সুরে বাঁধা। এই সাতটি সুর একসঙ্গে হলেই তা শুনতে যথাযথ লাগে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, জি-২০ গোষ্ঠী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা গোষ্ঠী। বৈশ্বিক জিডিপির ৮৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্যের ৭৫ শতাংশও নিয়ন্ত্রণ করে এই গোষ্ঠীর সদস্য দেশগুলো। আর বিশ্বের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ বাস করে এই গোষ্ঠীর সদস্য দেশগুলোতে।

ডিসেম্বর থেকে শক্তিশালী এই গোষ্ঠীরই সভাপতিত্ব করতে চলেছে ভারত। এ সম্পর্কে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টি মেনে প্রস্তুত করা পররাষ্ট্র নীতি, বিশ্ব মঞ্চে ভারতকে নেতৃত্বদানের ভূমিকায় উন্নীত করেছে। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে জি-২০’র সভাপতিত্ব করা গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।’

এতে আরও বলা হয়, ‘জি-২০ জোটের সভাপতিত্ব ভারতের সামনে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে অবদান রাখার এক অনন্য সুযোগ করে দিয়েছে।’

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

এক বিশ্ব, এক পরিবার, এক ভবিষ্যতের বার্তা মোদির

Update Time : ১২:৩৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ নভেম্বর ২০২২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চলতি বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী গ্রুপ অব টোয়েন্টি বা জি-২০ গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করবে ভারত। আর এ উপলক্ষে ভারতের জি-২০ সভাপতিত্বের লোগো, থিম এবং ওয়েবসাইটের উন্মোচন করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে এই লোগো-থিম উন্মোচন করে এক বিশ্ব, এক পরিবার, এক ভবিষ্যতের বার্তা দেন তিনি। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।

লোগো-থিম উন্মোচনের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘আমাদের জি-২০ সভাপতিত্বের লোগো, থিম ও ওয়েবসাইট বিশ্বের কাছে ভারতের বার্তা এবং সর্বাধিক অগ্রাধিকারকে প্রতিফলিত করবে।’

সংবাদমাধ্যম বলছে, প্রায় ১ বছর এই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে থাকবে ভারত। এসময় ভারতজুড়ে ৩২টি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২০০টি সভার আয়োজন করা হবে। এরপর ২০২৩ সালের নভেম্বরে জি-২০’র বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলেন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। মূলত সেই সম্মেলনই ভারতের মাটিতে সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন হতে চলেছে।

মঙ্গলবার ভারতের প্রকাশ করা জি-২০ সভাপতিত্বের লোগোতে সাত পাপড়ির এক পদ্মফুলের ছবি রয়েছে। পদ্মফুল ভারতের জাতীয় ফুল। জি-২০ সভাপতিত্বের লোগোতে পদ্মের উপস্থিতি ভারতীয় সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা, সম্পদের প্রতিনিধিত্ব করে বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

লোগোটির উন্মোচনের সময় নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘পদ্মের সাতটি পাপড়ি পৃথিবীর সাতটি মহাদেশ এবং সঙ্গীতের সাতটি সুরের প্রতিনিধিত্বকারী। জি-২০ সম্মেলন গোটা বিশ্বকে একত্রিত করবে। এই লোগোতে, পদ্ম ফুল ভারতের পৌরাণিক ঐতিহ্য, আমাদের বিশ্বাস, আমাদের বুদ্ধিমত্তাকে চিত্রিত করছে।’

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের জি-২০ প্রেসিডেন্সি এমন একটা সময়ে আসছে যখন পৃথিবীজুড়ে নানা সংকট ও অশান্তি চলছে। করোনা মহামারি পরবর্তী সময়ে ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সময়ে আশার প্রতীক হলো পদ্ম। সেটিই থাকছে লোগোতে। যত সংকটজনক পরিস্থিতিই হোক না কেন পদ্ম ফুটবেই।

তিনি আরও দাবি করেন, ভারতীয় সংস্কৃতিতে জ্ঞানের দেবী, সমৃদ্ধির দেবী পদ্মের ওপরেই বসেন। এটাই গোটা বিশ্ব চায়। পৃথিবীও পদ্মের ওপর বসে রয়েছে। পদ্মের সাতটি পাপড়িও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গোটা বিশ্বের গানও সাত সুরে বাঁধা। এই সাতটি সুর একসঙ্গে হলেই তা শুনতে যথাযথ লাগে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, জি-২০ গোষ্ঠী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা গোষ্ঠী। বৈশ্বিক জিডিপির ৮৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্যের ৭৫ শতাংশও নিয়ন্ত্রণ করে এই গোষ্ঠীর সদস্য দেশগুলো। আর বিশ্বের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ বাস করে এই গোষ্ঠীর সদস্য দেশগুলোতে।

ডিসেম্বর থেকে শক্তিশালী এই গোষ্ঠীরই সভাপতিত্ব করতে চলেছে ভারত। এ সম্পর্কে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টি মেনে প্রস্তুত করা পররাষ্ট্র নীতি, বিশ্ব মঞ্চে ভারতকে নেতৃত্বদানের ভূমিকায় উন্নীত করেছে। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে জি-২০’র সভাপতিত্ব করা গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।’

এতে আরও বলা হয়, ‘জি-২০ জোটের সভাপতিত্ব ভারতের সামনে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে অবদান রাখার এক অনন্য সুযোগ করে দিয়েছে।’