যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় খামেনির সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।
১৯৮৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি-এর মৃত্যুর পর খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দেশটির নীতিনির্ধারণ ও ক্ষমতার কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, খামেনি ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া এখন ইরানের ‘পবিত্র দায়িত্ব এবং বৈধ অধিকার’।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে একে ইরানের জন্য ‘মুক্তির মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলে রাষ্ট্রব্যবস্থা দ্রুত ভেঙে পড়বে। তবে সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবতা আরও জটিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল বিমান হামলার মাধ্যমে একটি দেশের গভীর প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা কাঠামো ধ্বংস করা সম্ভব নয়। ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়মিত সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং ‘বাসিজ’ নামের বিশাল স্বেচ্ছাসেবী মিলিশিয়া বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। এই কাঠামো অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন ও শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
হামলায় খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আলি শামখানিসহ শীর্ষ নিরাপত্তা বলয়ের সদস্যরা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজনী জানিয়েছেন, নেতৃত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং দ্রুত একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কাউন্সিল গঠন করা হবে। প্রেসিডেন্ট, প্রধান বিচারপতি ও বিশেষজ্ঞ পরিষদের একজন ফকিহ পরবর্তী নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শাসনব্যবস্থা ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গড়ে তোলা। ফলে শীর্ষ নেতা নিহত হলেও রাষ্ট্রযন্ত্র ‘অটো-পাইলট’ ব্যবস্থায় চলতে সক্ষম। একই সঙ্গে সরকার পরিস্থিতিকে জাতীয় অখণ্ডতা রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরে ধর্মীয় বৈধতার পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী আবেগও জোরদার করার চেষ্টা করছে।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাসান আহমাদিয়ান মনে করেন, খামেনির দীর্ঘদিনের ‘কৌশলগত ধৈর্য’ নীতির অবসান ঘটতে পারে। নতুন নেতৃত্ব আরও কঠোর ও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নেতৃত্বে আঘাত এলেও ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার অক্ষত রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হয়ে বরং আরও অনিশ্চিত ও সহিংস হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
ডেস্ক নিউজ 























