১. হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বেনীবাবু রোডস্থ প্রেস ক্লাব খুলনা -২ তে চলছে জুয়া, নিরব ভূমিকায় প্রশাসন”
২. মোহামেডান ক্লাব সংলগ্ন একুশে আলী’র তিন পাত্তি জুয়া এখন জমজমাট
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আজ ১৫ আগষ্ট। জাতীয় শোক দিবস।এ দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আজ তার ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী।গোটাদেশ যখন এই দিনটিতে শোকের মাতম বানায়, বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত হয় দোয়া মাহফিল।তখন, খুলনার জুয়াসম্রাটখ্যাত মনোয়ার হোসেন মনাসহ একদল জুয়াড়ি এসব ভুলে আজ সারাদিন মেতে ছিল জুয়া ঊৎসবে। প্রতিদিনের ন্যায় আজও নগরীর বেণী বাবু রোডস্থ প্রেস ক্লাব – ২ এর কক্ষে দিনব্যাপী চলেছে এ নিষিদ্ধঘোষিত এ জুয়া। এ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের আত্মার মাগফেরাত কামনায় ব্যাস্ত খুলনার সর্বস্তরের মানুষ। অন্যান্যদিনের মত আজও বিভিন্ন স্থান থেকে আসা জুয়াড়ীদের উপস্থিতিতে সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত রমরমাভাবে চলেছে জুয়া আড্ডা।তবে এ সকল তথ্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জানা থাকলেও নিরব ভূমিকা পালন করছে তারা।
এদিকে খুলনা মোহামেডান ক্লাবের বিপরীতে “মোঃ আলী ওরফে একুশে আলী” অভিনব কায়দায় দীর্ঘদিন ধরে তিন পাত্তি জুয়া পরিচালনা করে আসছে । “ধরলেই দ্বিগুন টাকা ”এই মুখরোচক স্লোগান দিয়ে পথচারীদেরকে আকৃষ্ট করেই জুয়াখেলায় ধাবিত করছে সে ও তার দল। সামনে সাজানো ৬/৭ জন মধ্যবয়সী যুবকেরা অচেনা পথচারী সেজে কৌশলে নিজেদের জুয়ার টাকা জেতার নাটকে লিপ্ত হয়ে আকৃষ্ট করছে পথচারীদের।কিছু না বুঝে জুয়ায় আকৃষ্ট হয়ে কাছে থাকা সর্বস্ব হারিয়েছে অনেকেই। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কয়েকবার এ জুয়া ব্যাবসা বন্ধ করলেও পুনরায় একইভাবে জুয়াকার্য পরিচালনা করে যাচ্ছে তারা।
খুলনার বেণীবাবু রোডস্থ প্রেস ক্লাব খুলনা -২ এর সাইনবোর্ড ব্যাবহার করে দীর্ঘদিন এই জুয়াবোর্ড পরিচালনা করে আসছে মনোয়ার হোসেন মনা। জুয়া ও মাদক মামলায় কয়েকবার আটক হলেও এ ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে বহাল তবিয়াতে।গোপন সুত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের এ জুয়া ব্যাবসায় মনার আয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা । ২০ থেকে ২৫ জন জুয়াড়ীর সমন্বয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২৫ লাখ টাকার জুয়ার বোর্ড চলে এখানে।এক সময়ের দারিদ্রতার দ্রাঘিমারেখার নিচে অবস্থানকারী মনা জুয়া পরিচালনার মাধ্যমে রাতারাতি বনে যান জুয়াসম্রাট।
জুয়া বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে খুলনা প্রেস ক্লাব কর্তৃক কে এম পি ও র্যাব-৬ এর কার্যালয়ে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হলেও আজ পর্যন্ত গৃহীত হয়নি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যাবস্থা। শোক দিবসে জুয়াড়ীদের এ মিলন মেলা একদিকে যেমন প্রশ্নবিদ্ধ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। অপরদিকে ভাবিয়ে তুলছে দেশপ্রেমীদেরকে। এ বিষয়ে কে এম পি’র ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চের ডিসি বি এম নুরুজ্জামান জানান, ঘটনার সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা যায় জুয়াড়ীদের মূলহোতা মনোয়ার হোসেন মনা নিজেকে র্যাব ও পুলিশ বন্ধু বলে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে প্রতিনিয়ত এ আসর চালায়। এছাড়া সাংবাদিক ও আইন শৃঙ্খলা প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের নাম ভাঙ্গিয়ে জুয়া পরিচালনা করছে বলে জানায় একটি সুত্র।

গত জুন মাসে কিছু সংবাদ মাধ্যমে জুয়ার তথ্য প্রচার হওয়ায় মূলহোতা মনা বর্তমান স্থান প্রেস ক্লাব খুলনা-২ থেকে বেরিয়ে জুয়া পরিচালনা করে ফুল মার্কেট সংলগ্ন হোটেল রিলাক্স‘র পঞ্চম তলায়।কয়েকদিন চালানোর পর পরবর্তীতে খুলনা শামসুর রহমান রোডের একটি বাসার দ্বিতীয় তলায় ১২ দিন ধরে বিভিন্ন স্থানের জুয়াড়িদের নিয়ে জুয়া চালাতে থাকে । ২৮ জুন সোমবার কে এম পি’র ডিবি পুলিশের একটি টিম গোপন সুত্রের ভিত্তিতে ০৪ নং শামসুর রহমান রোডস্থ যুবক ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মূলহোতা মনোয়ার হোসেন মনাসহ ২১ জনকে আটক করে। পরে ধৃত জুয়াড়ীদের বিরুদ্ধে খুলনা থানায় ১৮৬৮ সালের জুয়া আইনে মামলা রূজুর মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করা হয়।তবে জুয়া মামলার সাজা ও জরিমানা নুন্যতম হওয়ায়, বের হয়েই পূর্ব স্থানে (প্রেস ক্লাব খুলনা – ২) পুনরায় আসন গেড়ে বসে তারা।
কক্ষের ভিতরে জুয়া পরিচালক ও ব্যাবস্থাপক মনা কক্ষের বাহিরে একজন শ্রমিকদরদী ও সেবক। জানা যায় আসন্ন খুলনা মটর শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনে সভাপতি পদে লড়বেন তিনি। সেই আলোকে নগরীর সোনাডাঙ্গা ও ডাকবাংলা মোড়ে কয়েকশো শ্রমিকের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন । ক্লীন ইমেজের কয়েকজন নেতার পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ বিতরণের সেসকল ছবিগুলো দিয়ে বিভিন্ন মহলে আধিপত্য বিস্তার করবার কথাও ভেসে বেড়াচ্ছে মটর-শ্রমিক পাড়ায়।
গেল বছর অবৈধ ক্যাসিনো ও রমরমা জুয়াবিরোধী অভিযানে সাড়া ফেলে পুরো দেশে।তদন্তে উঠে আসে দেশ ও বিদেশী জুয়াড়ীদের তথ্য।সে সময় ভাগ্যের উপর নির্ভরশীল সকল জুয়া খেলাসহ ঢাকার বেশ কয়েকটি ক্লাব বন্ধের আদেশ দেয় হাইকোর্ট।অবৈধ জুয়া বন্ধে প্রচলিত আইনের সংশোধন ও সাজা বাড়ানোর নির্দেশনা থাকে রায়ে।
১৮৬৭ সালের জুয়া আইনে বলা হয়েছে যেকোনো ঘর, স্থান , তাবু জুয়ার স্থান হিসেবে ব্যাবহৃত হলে তার মালিক , রক্ষণাবেক্ষনকারী, জুয়ার ব্যাবস্থাপক বা সাহায্যকারী তিন মাসের কারাদন্ড বা অনুর্দ্ধ ২শ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে।
সামাজিক ও পারিবারিক কলহসৃষ্টিকারি একটি মারাত্বক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে এই জুয়া।সমাজের এক শ্রেণীর সচেতন ব্যাক্তিবর্গ মনে করছেন অতিসত্বর এটির লাগাম টেনে না ধরলে বেড়েই চলবে যুব সমাজের অবক্ষয়। শুধু শোক দিবস নয় নিজ পরিবারের সদস্যদের হারানোর শোক ও হয়তো ভুলতে শুরু করবে এসকল জুয়াড়িরা।
Reporter Name 

























