নগর জীবনের যান্ত্রিকতা ছাপিয়ে সপ্তাহের একটি বিশেষ দিনে নীরবতা আর পরম মমতায় ভরে ওঠে খুলনা নগরীর খালিশপুরের গোয়ালখালী কবরস্থান। প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করতে এখানে ভিড় জমান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে আবেগ ও স্মৃতির এক অনন্য মিলনস্থল।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) পরিচালিত ১০ নম্বর ওয়ার্ডের এই ঐতিহ্যবাহী কবরস্থানটিতে জুমার নামাজের পরপরই শুরু হয় মানুষের আনাগোনা। নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা স্বজনদের উপস্থিতিতে কবরস্থান জুড়ে এক শান্তিময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কেউ বাবার কবরের পাশে, কেউ মায়ের, আবার কেউ অকালে চলে যাওয়া সন্তানের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে মোনাজাত করেন। চারপাশ থেকে ভেসে আসে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের ধ্বনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, কবরস্থানের প্রতিটি সারিতেই জিয়ারতকারীদের ভিড়। কেউ একা নিভৃতে দাঁড়িয়ে প্রিয়জনের জন্য দোয়া করছেন, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একসাথে মোনাজাতে শামিল হয়েছেন। বয়স্কদের পাশাপাশি তরুণ ও শিশুদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
বঙ্গবাসী এলাকা থেকে আসা সুমন খন্দকার বলেন, “আমার বাবা এখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। শত ব্যস্ততার মাঝেও প্রতি শুক্রবার জুমার পর এখানে আসি। বাবার কবরের পাশে দাঁড়ালে মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি পাই।” হাউজিং এলাকা থেকে আসা রাজু জানান, তার পরিবারের অনেক সদস্য এখানে দাফন হয়েছেন, তাই প্রতি সপ্তাহেই নিয়মিত জিয়ারতে আসেন তিনি।
ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মতে, কবর জিয়ারত মানুষের অন্তরে মৃত্যুচিন্তা জাগ্রত করে এবং পরকালের প্রস্তুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। বিকেলের আলো কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং কবরস্থানটি আবারও তার চিরাচরিত নীরবতায় ফিরে যায়।
সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট সময়ে জীবন্ত হয়ে ওঠা এই গোয়ালখালী কবরস্থান যেন জানান দেয়—মানুষ চলে গেলেও তাদের প্রতি স্বজনদের ভালোবাসা ও সম্পর্কের বন্ধন কখনো ছিন্ন হয় না।
খুলনা প্রতিনিধি 






















