রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের রেলপথ অবরোধ কর্মসূচির কারণে আবারও রাজশাহী অঞ্চলের ট্রেন যোগাযোগে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। রোববার ২৩ নভেম্বর দুপুর আড়াইটা থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে ছয়টি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকে যায়। এতে সারাদেশের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
শিক্ষার্থীরা জানান, ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা পেছানোর দাবি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে তারা বাধ্য হয়ে রেললাইন অবরোধে নেমেছেন। তাদের দাবি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনেও কাজ না হওয়ায় কঠোর কর্মসূচি নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পশ্চিমাঞ্চল রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তবে ছাত্ররা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রেললাইন ছাড়বেন না।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের চিফ অপারেটিং কর্মকর্তা আহসানুল্লাহ ভূঁইয়া জানান, অবরোধের কারণে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস, টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ও পদ্মা এক্সপ্রেস দাঁড়িয়ে আছে। আর বনলতা এক্সপ্রেস, সাগরদাড়ি এক্সপ্রেস এবং বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়েছে। মোট ছয়টি ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় হওয়ায় হাজারো যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় রয়েছেন।
স্টেশনে যাত্রীদের অনেককে প্ল্যাটফর্মে এবং ট্রেনের ভেতরে বসে সময় কাটাতে দেখা গেছে। যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন যে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও ট্রেন ছাড়ার কোনো নিশ্চয়তা রেল কর্তৃপক্ষ দিতে পারছে না। অনেক যাত্রী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় টিকিট ফেরত দিয়ে বাসে যাত্রা করেছেন।
রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, পরপর দুই দিনের অবরোধের কারণে আজ বা গতকালের কোনোভাবেই ট্রেন সিডিউল স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আটকানো ট্রেনগুলো স্টেশন ছাড়তে পারবে না বলে জানান কর্মকর্তারা।
ডেস্ক নিউজ 























