রোপা আমন ধানের পাতা হলুদ হলে কী করবেন, জানালো ব্রি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৩৩:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর ২০২২
  • 271

নিজস্ব প্রতিবেদক
রোপা আমনের খেতে কিছু কিছু জায়গায় বিভিন্ন জাতের ধানের পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি রংপুরে অঞ্চলে মাঠ পরিদর্শনে এমন চিত্র দেখা গেছে। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে কিছুটা দুশ্চিন্তা দেখা যাচ্ছে।বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন কারণে ধানগাছের পাতা হলুদ হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে সঠিক কারণ নির্ণয় করে যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।এ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনিস্টিউট (ব্রি)। নিচে তা তুলে ধরা হলো-
যেখানে-সেখানে বিক্ষিপ্তভাবে না হয়ে জমির সব জায়গার ধান গাছের পাতা হলুদ হয়ে গেলে এবং কুশির পরিমাণ কম হলে বুঝতে হবে নাইট্রোজেনের অভাব রয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় গাছের পুরোনো পাতায় হলুদ বর্ণের লক্ষণ দেখা যায়। তবে কিছুদিন পরই গাছের সব পাতা হলুদ হয়ে যায়।প্রতিকার- কম উর্বর জমি, মধ্যম জীবনকাল (১২০-১৪৫ দিন) এবং জাতের ফলন ক্ষমতা ৫-৬ টন (হেক্টরপ্রতি) বিবেচনায় ইউরিয়া সারের মাত্রা সাধারণত ২৪ কেজি (৩৩ শতাংশ)। জমিতে পানি কম থাকলে (২-৩ ইঞ্চি) গাছের জীবনপর্যায় এবং স্তর বিবেচনায় ইউরিয়া সার সমান তিন কিস্তিতে উপরিপ্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া জমি জলাবদ্ধ অবস্থায় থাকলে ১০০ গ্রাম ইউরিয়া ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে।প্রাথমিক অবস্থায় পুরো ধানখেতে কচি পাতায় হালকা সবুজ বা হালকা হলুদ বিবর্ণতার লক্ষণ দেখা যায়। পরে নিচের পাতাগুলোতেও এটা দেখা যায়। বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, মাঠের নিচু জায়গায় বেশিরভাগ গাছ কিছুটা বেঁটে হয়ে যায়।অতিবৃষ্টি বা বন্যা পরবর্তীসময়ে জমিতে জলাবদ্ধ অবস্থার সৃষ্টি হলে গন্ধক বা সালফার সালফেটে রুপান্তরিত না হয়ে সালফায়েডে রূপান্তরিত হয়, যা গাছ আর গ্রহণ করতে পারে না।প্রতিকার- জমিতে পানি কম থাকলে (২-৩ ইঞ্চি) জিপসাম ৬-৮ কেজি (৩৩ শতাংশে) সার প্রয়োগ করতে হবে। কিন্তু জমি জলাবদ্ধ অবস্থায় থাকলে ৬০ গ্রাম থিয়োডিট ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে।ধান গাছের কচি পাতার গোঁড়ার দিকে মধ্যশিরা বরাবর সাদা হয়ে যায়, যা পরে ব্রজিং বা মরচে দাগ পড়া বাদামি রং থেকে কমলালেবুর রং ধারণ করে। ধানের কুশি কম হয়ে থাকে এবং বিক্ষিপ্ত অবস্থায় গাছগুলো ছোট হয়ে যায়। অতিবৃষ্টি বা বন্যা পরবর্তীসময়ে জমিতে জলাবদ্ধ অবস্থার সৃষ্টি হলে মাটির পিএইচ বেড়ে যায়। ফলে গাছ দস্তা বা জিংক গ্রহণ করতে পারে না।
প্রতিকার- জমিতে পানি কম থাকলে (২-৩ ইঞ্চি) জিংক সালফেট বা এক কেজি (৩৩ শতাংশে) প্রয়োগ করলে গাছ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যায়। কিন্তু জমি জলাবদ্ধ অবস্থায় থাকলে ২০ গ্রাম জিংক সালফেট (মনো) ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে।জমিতে অতিরিক্ত মাত্রায় ইউরিয়া সার প্রয়োগ এবং পরবর্তীসময়ে ঝড়ো বাতাস বা ঝড়-বৃষ্টির পরে পাতায় পাতায় ঘর্ষণে ক্ষত সৃষ্টি হলে এ রোগ দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে পাতার শীর্ষে অথবা কিনারায় হলুদাভ দাগ সৃষ্টি হয়। পরে পাতার ওপর থেকে ক্রমশ নিচের দিকে এবং পাতার দুই পাশ থেকে ভেতরের দিকে হলুদাভ দাগ বৃদ্ধি পায়, যা পরে দেখতে খড়ের মতো দেখায়।প্রতিকার- ৬০ গ্রাম মিউরেট অব পটাশ (এমওপি), ৬০ গ্রাম থিওভিট এবং ২০ গ্রাম জিংক সালফেট (মনো) ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করলে অল্পসময়ের (৭ থেকে ১০ দিন) মধ্যে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ হয়ে নতুন সবুজ পাতা বের হয়।

 

ফাস্ট নিউজ ৭১/ দ ম দ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

রোপা আমন ধানের পাতা হলুদ হলে কী করবেন, জানালো ব্রি

Update Time : ০৮:৩৩:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক
রোপা আমনের খেতে কিছু কিছু জায়গায় বিভিন্ন জাতের ধানের পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি রংপুরে অঞ্চলে মাঠ পরিদর্শনে এমন চিত্র দেখা গেছে। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে কিছুটা দুশ্চিন্তা দেখা যাচ্ছে।বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন কারণে ধানগাছের পাতা হলুদ হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে সঠিক কারণ নির্ণয় করে যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।এ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনিস্টিউট (ব্রি)। নিচে তা তুলে ধরা হলো-
যেখানে-সেখানে বিক্ষিপ্তভাবে না হয়ে জমির সব জায়গার ধান গাছের পাতা হলুদ হয়ে গেলে এবং কুশির পরিমাণ কম হলে বুঝতে হবে নাইট্রোজেনের অভাব রয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় গাছের পুরোনো পাতায় হলুদ বর্ণের লক্ষণ দেখা যায়। তবে কিছুদিন পরই গাছের সব পাতা হলুদ হয়ে যায়।প্রতিকার- কম উর্বর জমি, মধ্যম জীবনকাল (১২০-১৪৫ দিন) এবং জাতের ফলন ক্ষমতা ৫-৬ টন (হেক্টরপ্রতি) বিবেচনায় ইউরিয়া সারের মাত্রা সাধারণত ২৪ কেজি (৩৩ শতাংশ)। জমিতে পানি কম থাকলে (২-৩ ইঞ্চি) গাছের জীবনপর্যায় এবং স্তর বিবেচনায় ইউরিয়া সার সমান তিন কিস্তিতে উপরিপ্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া জমি জলাবদ্ধ অবস্থায় থাকলে ১০০ গ্রাম ইউরিয়া ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে।প্রাথমিক অবস্থায় পুরো ধানখেতে কচি পাতায় হালকা সবুজ বা হালকা হলুদ বিবর্ণতার লক্ষণ দেখা যায়। পরে নিচের পাতাগুলোতেও এটা দেখা যায়। বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, মাঠের নিচু জায়গায় বেশিরভাগ গাছ কিছুটা বেঁটে হয়ে যায়।অতিবৃষ্টি বা বন্যা পরবর্তীসময়ে জমিতে জলাবদ্ধ অবস্থার সৃষ্টি হলে গন্ধক বা সালফার সালফেটে রুপান্তরিত না হয়ে সালফায়েডে রূপান্তরিত হয়, যা গাছ আর গ্রহণ করতে পারে না।প্রতিকার- জমিতে পানি কম থাকলে (২-৩ ইঞ্চি) জিপসাম ৬-৮ কেজি (৩৩ শতাংশে) সার প্রয়োগ করতে হবে। কিন্তু জমি জলাবদ্ধ অবস্থায় থাকলে ৬০ গ্রাম থিয়োডিট ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে।ধান গাছের কচি পাতার গোঁড়ার দিকে মধ্যশিরা বরাবর সাদা হয়ে যায়, যা পরে ব্রজিং বা মরচে দাগ পড়া বাদামি রং থেকে কমলালেবুর রং ধারণ করে। ধানের কুশি কম হয়ে থাকে এবং বিক্ষিপ্ত অবস্থায় গাছগুলো ছোট হয়ে যায়। অতিবৃষ্টি বা বন্যা পরবর্তীসময়ে জমিতে জলাবদ্ধ অবস্থার সৃষ্টি হলে মাটির পিএইচ বেড়ে যায়। ফলে গাছ দস্তা বা জিংক গ্রহণ করতে পারে না।
প্রতিকার- জমিতে পানি কম থাকলে (২-৩ ইঞ্চি) জিংক সালফেট বা এক কেজি (৩৩ শতাংশে) প্রয়োগ করলে গাছ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যায়। কিন্তু জমি জলাবদ্ধ অবস্থায় থাকলে ২০ গ্রাম জিংক সালফেট (মনো) ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে।জমিতে অতিরিক্ত মাত্রায় ইউরিয়া সার প্রয়োগ এবং পরবর্তীসময়ে ঝড়ো বাতাস বা ঝড়-বৃষ্টির পরে পাতায় পাতায় ঘর্ষণে ক্ষত সৃষ্টি হলে এ রোগ দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে পাতার শীর্ষে অথবা কিনারায় হলুদাভ দাগ সৃষ্টি হয়। পরে পাতার ওপর থেকে ক্রমশ নিচের দিকে এবং পাতার দুই পাশ থেকে ভেতরের দিকে হলুদাভ দাগ বৃদ্ধি পায়, যা পরে দেখতে খড়ের মতো দেখায়।প্রতিকার- ৬০ গ্রাম মিউরেট অব পটাশ (এমওপি), ৬০ গ্রাম থিওভিট এবং ২০ গ্রাম জিংক সালফেট (মনো) ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করলে অল্পসময়ের (৭ থেকে ১০ দিন) মধ্যে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ হয়ে নতুন সবুজ পাতা বের হয়।

 

ফাস্ট নিউজ ৭১/ দ ম দ