শ্বেতাঙ্গদের অগ্রাধিকার দিয়ে সর্বনিম্ন শরণার্থী কোটা ঘোষণা ট্রাম্পের

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:৩১:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  • 137

শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানদের অগ্রাধিকার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বনিম্ন শরণার্থী কোটা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৬ অর্থবছরে মাত্র ৭,৫০০ জন শরণার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। এই কোটা ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

৩০ সেপ্টেম্বরের তারিখে প্রকাশিত প্রেসিডেন্টের এক নথিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।

নথিতে বলা হয়, সীমিত সংখ্যক শরণার্থী কোটায় দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ট্রাম্পের এক নির্বাহী আদেশে দাবি করা হয়েছে, এরা নিজ দেশে “অবৈধ বৈষম্যের” শিকার। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার ও আফ্রিকানার নেতারা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, এখন থেকে শরণার্থী পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করবে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের রিফিউজি রিসেটেলমেন্ট অফিস, ফলে দীর্ঘদিন ধরে এই কাজে যুক্ত বহু বেসরকারি সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠন এ দায়িত্ব থেকে বাদ পড়বে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়ে ১ লাখ ২৫ হাজার শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিলেন, যা ট্রাম্পের ঘোষিত সীমার এক দশমাংশেরও কম।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প শরণার্থী ও অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করেছেন। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানদের প্রতি বিশেষ সহানুভূতি দেখিয়েছেন।

১৯৮০ সালের রিফিউজি অ্যাক্ট অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট প্রতি অর্থবছরে শরণার্থী গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করতে পারেন, তবে কোনো সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারিত নেই।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তকে বর্ণবাদী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করেছে।
আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো অ্যারন রাইকলিন-মেলনিক বলেন, “ট্রাম্পের নতুন নীতি মানবিক কর্মসূচিকে শ্বেতাঙ্গ অভিবাসনের পথে পরিণত করছে।”

আন্তর্জাতিক শরণার্থী সহায়তা প্রকল্প (আইআরএপি) অভিযোগ করেছে, এই সিদ্ধান্তে কংগ্রেসের সঙ্গে বাধ্যতামূলক পরামর্শ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৪ কোটি ২৭ লাখের বেশি শরণার্থী রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

শ্বেতাঙ্গদের অগ্রাধিকার দিয়ে সর্বনিম্ন শরণার্থী কোটা ঘোষণা ট্রাম্পের

Update Time : ১২:৩১:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানদের অগ্রাধিকার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বনিম্ন শরণার্থী কোটা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৬ অর্থবছরে মাত্র ৭,৫০০ জন শরণার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। এই কোটা ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

৩০ সেপ্টেম্বরের তারিখে প্রকাশিত প্রেসিডেন্টের এক নথিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।

নথিতে বলা হয়, সীমিত সংখ্যক শরণার্থী কোটায় দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ট্রাম্পের এক নির্বাহী আদেশে দাবি করা হয়েছে, এরা নিজ দেশে “অবৈধ বৈষম্যের” শিকার। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার ও আফ্রিকানার নেতারা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, এখন থেকে শরণার্থী পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করবে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের রিফিউজি রিসেটেলমেন্ট অফিস, ফলে দীর্ঘদিন ধরে এই কাজে যুক্ত বহু বেসরকারি সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠন এ দায়িত্ব থেকে বাদ পড়বে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়ে ১ লাখ ২৫ হাজার শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিলেন, যা ট্রাম্পের ঘোষিত সীমার এক দশমাংশেরও কম।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প শরণার্থী ও অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করেছেন। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানদের প্রতি বিশেষ সহানুভূতি দেখিয়েছেন।

১৯৮০ সালের রিফিউজি অ্যাক্ট অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট প্রতি অর্থবছরে শরণার্থী গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করতে পারেন, তবে কোনো সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারিত নেই।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তকে বর্ণবাদী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করেছে।
আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো অ্যারন রাইকলিন-মেলনিক বলেন, “ট্রাম্পের নতুন নীতি মানবিক কর্মসূচিকে শ্বেতাঙ্গ অভিবাসনের পথে পরিণত করছে।”

আন্তর্জাতিক শরণার্থী সহায়তা প্রকল্প (আইআরএপি) অভিযোগ করেছে, এই সিদ্ধান্তে কংগ্রেসের সঙ্গে বাধ্যতামূলক পরামর্শ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৪ কোটি ২৭ লাখের বেশি শরণার্থী রয়েছে।