Dhaka ১১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশুর আদর্শ খাবার মায়ের বুকের দুধ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩৩:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২
  • 137

ফার্স্টনিউজ ডেস্ক

জন্মের পর একটি শিশু সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য যে পুষ্টির দরকার, এর সবই মায়ের দুধে আছে। তাই মায়ের বুকের দুধই শিশুর শ্রেষ্ঠ খাবার। শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও দৈহিক গঠনে মায়ের দুধের অপরিহার্যতা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। শিশু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণের মতে, অন্য যে কোনো বিকল্প দুধের চেয়ে মায়ের দুধের পুষ্টিগুণ বহুলাংশে বেশি। পরিমিত প্রোটিন, ভিটামিন ও রোগ প্রতিরোধ উপাদানের সংমিশ্রণে বুকের দুধ শিশুর জন্য সবচেয়ে আদর্শ খাবার।

শিশুর প্রথম পুষ্টির যোগানও আসে মাতৃদুগ্ধ থেকে। শিশু জন্মের পর মায়ের বুকে প্রথম যে দুধ আসে তাকে শাল দুধ বলা হয়। শালদুধ শিশুর রোগ প্রতিরোধে শক্তিশালী প্রাচীর হিসেবে কাজ করে। এর ফলে শিশুর শরীরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ ক্ষমতাসহ অন্যান্য রোগ-জীবাণু প্রবেশ করতে পারে না।

নবজাতক ও মাকে একই বিছানায় থাকতে দিতে হবে, যাতে শিশু তার মায়ের সান্নিধ্য পায়। মায়ের পর্যাপ্ত দুধ আসার জন্য অন্য সময়ের তুলনায় একটু বেশি পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। কারণ, শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য যা কিছু প্রয়োজন তার সব কিছুই মায়ের দুধে আছে। বুকের দুধ খেলে শিশুর বৃদ্ধি বাড়ে, সুস্থ থাকে ও সহজে রোগাক্রান্ত হয় না।

শিশুকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। এ সময় অন্য কোন খাবার এমনকি পানিও দেয়ার প্রয়োজন নেই। ছয় মাস পর থেকে দু’বছর বয়স পর্যন্ত বুকের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য স্বাভাবিক খাবার খাওয়াতে হবে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের গবেষণায় দেখা গেছে, স্তন্যদানকারী মা প্রসব পরবর্তী বিষন্নতায় কম ভোগেন। জন্মের পরই শিশুকে বুকের দুধ দিলে মায়ের শরীর থেকে অক্সিটোসিন নিঃসৃত হয়। এই অক্সিটোসিন জরায়ু এবং এর রক্তনালিকে সংকুচিত করতে সাহায্য করে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, জন্মের পর শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে মায়ের স্তন ক্যান্সারের আশঙ্কা ২৫ শতাংশ কমে আর জরায়ু ক্যান্সারের আশঙ্কা ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ কমে যায়।

দেশে প্রায় ৬৪ শতাংশ শিশু মায়ের বুকের দুধ পান করে থাকে। শিশুদের বুকের দুধ পান করানোয় মায়েদের সহায়তা করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের ৯৮টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। ওয়ার্ল্ড ব্রেস্টফিডিং ট্রেন্ডস ইনিশিয়েটিভ (ডব্লিউবিটিআই) থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায় যে বর্তমানে ৯১ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশ তালিকায় প্রথম হয়েছে। ২০১৫ সালে এ স্কোর ছিল ৮৬ শতাংশ।

মায়ের বুকের দুধ শিশুর অমৃত, সঞ্জীবনী। শিশুকে মায়ের দুধ পান করানোর জন্য মাকে পরিবারের সবাই মিলে সহযোগিতা করতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

MD Alam

জনপ্রিয়

শিশুর আদর্শ খাবার মায়ের বুকের দুধ

Update Time : ০৭:৩৩:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২

ফার্স্টনিউজ ডেস্ক

জন্মের পর একটি শিশু সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য যে পুষ্টির দরকার, এর সবই মায়ের দুধে আছে। তাই মায়ের বুকের দুধই শিশুর শ্রেষ্ঠ খাবার। শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও দৈহিক গঠনে মায়ের দুধের অপরিহার্যতা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। শিশু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণের মতে, অন্য যে কোনো বিকল্প দুধের চেয়ে মায়ের দুধের পুষ্টিগুণ বহুলাংশে বেশি। পরিমিত প্রোটিন, ভিটামিন ও রোগ প্রতিরোধ উপাদানের সংমিশ্রণে বুকের দুধ শিশুর জন্য সবচেয়ে আদর্শ খাবার।

শিশুর প্রথম পুষ্টির যোগানও আসে মাতৃদুগ্ধ থেকে। শিশু জন্মের পর মায়ের বুকে প্রথম যে দুধ আসে তাকে শাল দুধ বলা হয়। শালদুধ শিশুর রোগ প্রতিরোধে শক্তিশালী প্রাচীর হিসেবে কাজ করে। এর ফলে শিশুর শরীরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ ক্ষমতাসহ অন্যান্য রোগ-জীবাণু প্রবেশ করতে পারে না।

নবজাতক ও মাকে একই বিছানায় থাকতে দিতে হবে, যাতে শিশু তার মায়ের সান্নিধ্য পায়। মায়ের পর্যাপ্ত দুধ আসার জন্য অন্য সময়ের তুলনায় একটু বেশি পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। কারণ, শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য যা কিছু প্রয়োজন তার সব কিছুই মায়ের দুধে আছে। বুকের দুধ খেলে শিশুর বৃদ্ধি বাড়ে, সুস্থ থাকে ও সহজে রোগাক্রান্ত হয় না।

শিশুকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। এ সময় অন্য কোন খাবার এমনকি পানিও দেয়ার প্রয়োজন নেই। ছয় মাস পর থেকে দু’বছর বয়স পর্যন্ত বুকের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য স্বাভাবিক খাবার খাওয়াতে হবে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের গবেষণায় দেখা গেছে, স্তন্যদানকারী মা প্রসব পরবর্তী বিষন্নতায় কম ভোগেন। জন্মের পরই শিশুকে বুকের দুধ দিলে মায়ের শরীর থেকে অক্সিটোসিন নিঃসৃত হয়। এই অক্সিটোসিন জরায়ু এবং এর রক্তনালিকে সংকুচিত করতে সাহায্য করে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, জন্মের পর শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে মায়ের স্তন ক্যান্সারের আশঙ্কা ২৫ শতাংশ কমে আর জরায়ু ক্যান্সারের আশঙ্কা ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ কমে যায়।

দেশে প্রায় ৬৪ শতাংশ শিশু মায়ের বুকের দুধ পান করে থাকে। শিশুদের বুকের দুধ পান করানোয় মায়েদের সহায়তা করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের ৯৮টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। ওয়ার্ল্ড ব্রেস্টফিডিং ট্রেন্ডস ইনিশিয়েটিভ (ডব্লিউবিটিআই) থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায় যে বর্তমানে ৯১ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশ তালিকায় প্রথম হয়েছে। ২০১৫ সালে এ স্কোর ছিল ৮৬ শতাংশ।

মায়ের বুকের দুধ শিশুর অমৃত, সঞ্জীবনী। শিশুকে মায়ের দুধ পান করানোর জন্য মাকে পরিবারের সবাই মিলে সহযোগিতা করতে হবে।